সন্ত্রাসের আড়ালে অনেকে মানুষের ভোটে জনপ্রতিনিধি হয়েছে : এস পি হারুণ

নারায়ণগঞ্জ নিউজ ২৪ ডট কম: আমরা চাই, যার যার ব্যবসা সে সে করবে। তাকে কোনো চাঁদা দিতে হবে না, এমন প্রত্যায় ব্যক্ত করে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেছেন, কারো হুমকি ধমকিতে তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে, এই কার্যক্রম চালাতে দেওয়া যাবে না। ‘আমি জানি, অনেকেই আছেন সন্ত্রাসের আড়ালে ব্যবসার নাম ধারণ করেছেন, সন্ত্রাসের আড়ালে অনেকে মানুষের ভোটে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন৷ তার মানে এই নয় যে, এই এলাকার মানুষের জিম্মাদার করা হয়েছে৷ এলাকার মানুষের ভালোর জন্য সব কাজ আমরা পুলিশ-প্রশাসন করবো।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১২টায় শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় প্রজন্ম প্রত্যাশা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে পূজা উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন৷

সংগঠনের সভাপতি শংকর সাহার সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল কাদির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) নূরে আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) সুবাস সাহা, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা (ডিআইও-২) সাজ্জাদ রোমন প্রমুখ৷

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের সকলকে সাথে নিয়ে সুন্দর একটা শহর তৈরি করার চেষ্টা করছি৷ যে শহরে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ থাকবে না, কোন লোকের ভয়ে, হুমকি-ধমকিতে কেউ পিছপা হবে না৷ এটা আমরা চেষ্টা করেছি৷

এসপি বলেন, যারা জুয়া খেলেন তাদের ছাড় দিচ্ছি না৷ নারায়ণগঞ্জ থেকে আমরাই শুরু করেছি৷ এখন দেখছেন সারা দেশেই ক্যাসিনো সামগ্রী উদ্ধার অভিযান৷

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য এটা সবচেয়ে বড় উৎসব৷ হিন্দুদের হলেও বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী এই উৎসব সকলের৷ স্বাধীনতার মূল মন্ত্র এটাই৷ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ম্যাসেজ অনুযায়ী প্রতিটি পূজা মন্ডপ আইনশৃঙ্খলার আওতায় এনে কোথাও কোন বিশৃঙ্খলা যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করেছি৷ এই নারায়ণগঞ্জ হিন্দুদের বাংলাদেশের অত্যন্ত পবিত্র স্থান৷ লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্মস্থান ও লাঙলবন্দ স্নান হয় এই নারায়ণগঞ্জে৷ ঐতিহাসিক অনেককিছু আছে এই নারায়ণগঞ্জ যা নিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী গর্ববোধ করতে পারে৷

তিনি বলেন, ‘ধর্মের নামে অনেক ধর্মীয় সংগঠন গড়ে উঠেছিল যার অস্তিত্ব এখন আর দেখা যায় না৷ কিন্তু তারা এখনও নিঃশেষ হয়ে যায়নি, পর্দার আড়ালে রয়েছে৷ তারা যেকোন সময় ছোবল দেবে৷ তারা একটা বোমা নিক্ষেপ করবে আর প্রমাণ করতে চাইবে, আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খারাপ৷ একটা গ্রুপ পুলিশ বাহিনীর ঐতিহ্য নষ্ট করার জন্য বসে আছে৷ তাই আপনাদের চোখ, কান খোলা রাখতে হবে৷ কেউ আরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইলে কঠোর হস্তে দমন করবো৷ পূজার মধ্যে কেউ মাতাল হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে তাদেরও দমন করবো৷’

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment