ভোট কেন্দ্র পরিবর্তনের জেরে বিএনপিপন্থিদের ভোট বর্জন

নারায়ণগঞ্জ নিউজ ২৪ ডট কম: নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে ভোট কেন্দ্র পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিএনপিপন্থি জাতীয়তাবাদি আইনজীবী ঐক্য ফোরাম সমর্থিত প্যানেল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আজ মঙ্গলবার বিএনপি প্যানেল আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। গুঞ্জন রয়েছে ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন করা হলে বিএনপি প্যানেল নির্বাচন বর্জন করতে পারে। আগামীকাল বুধবার বারের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল সোমবার দুপুরে বার নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র নবনির্মিত বার ভবনের নিচতলার পরিবর্তে জেলা জজ কোর্ট ভবনের তৃতীয় তলায় স্থানান্তর করা হয়। এ নিয়ে বিএনপিপন্থি প্যানেল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ও ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন না করতে জেলা ও দায়রা জজ আনিসুর রহমানের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

বিএনপিপন্থী প্যানেলের সেক্রেটারী প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, এজিএম এর সিদ্ধান্ত ছিল নবনির্মিত বার ভবনের নিচ তলা ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার সকাল পর্যন্ত তা ঠিকই ছিল। কিন্তু দুপুরের পর হঠাৎ করেই কোন কারণ ব্যতিরেকেই কারও সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ভোট কেন্দ্র স্থানান্তর করে জেলা জজ ভবনের তৃতীয় তলায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন নির্বাচন কমিশন। আমরা এর তীব্র বিরোধীতা করেছি। ভোটারদের প্রভাবিত এবং নির্বাচনে কারচুপি করতেই নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জাতীয়তাবাদি আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতা অ্যাডভোকেট আবদুল হামিন খান ভাষানী বলেন, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্যই নির্বাচন কমিশন শেষ মুহুর্তে এসে ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন করতে চাচ্ছে। তাদের হীন উদ্দেশ্য রয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গত এজিএম এবং নির্বাচন সিডিউলেও ভোট গ্রহণ বার ভবনের নিচ তলায় অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত ছিল। এই সিদ্ধান্ত পরিবতর্নের অধিকার কারও নেই। তবে উভয় প্যানেলর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভোট কেন্দ্র পরিবর্তনের যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করে সেটি করা যেতে পারতো। কিন্তু যেহেতু নির্বাচন কমিশন একটি পক্ষের হয়ে কাজ করছে তাই তারা এ বিষয়ে একটি প্যানেলকে অন্ধকারে রেখেই এই হীন কাজটি করছে।

বারের বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক নির্বাচন কমিশন। এখানে বর্তমান কমিটির কোন কাজ নেই। নির্বাচন কমিশনই এ বিষয়ে ভাল বলতে পারবেন।
এদিকে নিজেকে অসহায় উল্লেখ করে বার নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র আইনজীবী

অ্যাডভোকেট আকতার হোসেন বলেন, কথা ছিল বার ভবনের নিচ তলায় ভোট হবে। কিন্তু নবনির্মিত বার ভবনের নিচ তলার কাজ শেষ হলেও সেখানে দরজা জানালা স্থাপন করা হয়নি। এজিএমএ কথা ছিল বর্তমান কমিটি নির্বাচনের আগেই বার ভবনের নিচ তলার দরজা জানালা লাগানোর ব্যবস্থা করবে। কিন্তু তারা তাদের কথা রাখেনি। এ কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে অন্য ৪ জন নির্বাচন কমিশনার ভোট গ্রহণের স্থান বার ভবনের নিচ তলার পরিবর্তে জেলা জজ ভবনের তৃতীয় তলায় করার জন্য প্রস্তাব করে। কিন্তু আমি এর বিরোধীতা করেছি। কারণ নির্বাচনের সিডিউলে ভোট গ্রহণের কথা বার ভবনের নিচ তলাতেই উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু যেহেতু অন্য ৪ জন নির্বাচন কমিশনার স্থান পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন তাই এ বিষয়ে আমার একার কিছুই করার নেই। আর আমি এখন পদত্যাগ করলে নির্বাচনটিই বন্ধ হয়ে যাবে। আমি এ কারণে দোটানায় পড়েছি। বিএনপিপন্থি প্যানেল এ বিষয়ে আমার কাছে তাদের আপত্তি জানিয়েছে। কিন্তু আমি তাদের জন্য কিছু করতে অপারগ।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment