খালেদা জিয়ার জন্য প্রস্তত করা হয়েছে “ফিরোজা”

নারায়ণগঞ্জ নিউজ ২৪ ডট কম: ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী যে বাড়ি থেকে তিনি কারাগারে গেছেন ২ বছর ১ মাস ১৬ দিন পর আবার সেই ফিরোজায় উঠতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ইতোমধ্যে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও গোছানো হয়েছে বাড়িটিকে। আজ বুধবার যে কোন সময় মুক্তি পাওয়ার পর ফিরোজতে উঠবেন খালেদা জিয়া।

২০১০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোডের বাসভবন ছেড়ে গুলশানে ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের বাসায় ওঠেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। ওই বছরই গুলশান ৭৯ নম্বর রোডের ১ নম্বর ‘ফিরোজা’ নামের এ বাড়িটি ভাড়া নেন খালেদা জিয়া। ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত খালেদা জিয়া সরকারের প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) কামরুল ইসলামের ছেলের ওই বাড়িটি ভাড়া নেওয়ার পর সংস্কার করে ২০১১ সালের ২১ এপ্রিল ভাইয়ের বাসা ছেড়ে ওই বাড়িতে ওঠেন তিনি।

২ বছর ১ মাস পর আবার সেই বাড়িতেই উঠতে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এতদিন ওই বাড়িতে গৃহকর্মী ছাড়া আর কেউ বসবাস করেননি। তবে তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমান সিঁথি মাঝে মধ্যে লন্ডন থেকে ঢাকায় এলে উঠতেন ওই বাড়িতে।

মঙ্গলবার বিকেলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদt সম্মেলনে জানান, খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে ৬ মাসের জন্য তাকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তার এ ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, গুলশান কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নড়েচড়ে বসেন। যারা এতদিন ঝিমিয়ে পড়েছিলেন, তাদের ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) আদৌ জীবিত অবস্থায় নিজ বাসায় ফিরতে পারবেন কিনা এমন চিন্তায় ছিলেন তারা সবাই চাঙ্গা হয়ে যান। শুরু হয় ধোয়ামোছার কাজ। রাত ১১টা নাগাদ অনেকটা প্রস্তত হয়ে যায় বাড়ি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, বাড়ি রেডি আছে। বাড়িতে ম্যাডামের সিএসএফ (চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স) সদস্য ও তার সঙ্গে যারা থাকতেন তারা আছেন।

খালেদা জিয়া কখন নাগাদ বাসায় ফিরতে পারেন জানতে চাইলে শায়রুল কবির বলেন, সেটা এখনই বলতে পারছি না। বুধবার তিনি বাসায় ফিরতে পারেন।

মঙ্গলবার রাত ১০টার পর ‘ফিরোজা’র সামনে গিয়ে দেখা যায়, চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) অন্যতম সদস্য সার্জেন্ট (অব.) নুরুন নবী দুই সহকর্মীকে নিয়ে বাসার গেটের সামনে বসে আছেন।

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর একে একে সবাই বিদায় নিয়েছেন। রয়েছেন কেবল নুরুন নবীসহ চার জন। খালেদা জিয়া না থাকলেও তার বাড়িটি ধুয়ে-মুছে বাসযোগ্য করে রাখা, বাড়ির বাগানের যত্ন নেওয়া এবং বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা বিধানের জন্যই এ চার জনকে রাখা হয়েছে। তারা জানালেন, মঙ্গলবার বিকেলে খালেদা জিয়ার মুক্তির খবর শোনার পরই বিশেষভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে বাড়িটিকে।

রান্নাঘর, থাকার ঘর, বসার ঘর, বারান্দা, বাসার লন, দরজা-জানালা, বিছানাপত্র, বাথরুম, ফ্যান-এসি, পর্দা— যা কিছু আছে, সব কিছু ধুয়ে-মুছে পরিষ্কারের কাজ চলছে তখনো। বাসার সামনে-পেছনের বাগান, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএসফের গাড়ি— সব ধুয়ে-মুছে পলিশ করা হয়েছে।

টিভি-ফ্রিজ, সোফা-আলমারি, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ অব্যাহত রয়েছে। ঝারবাতি, বাড়ির আঙ্গিনার ফ্লাডলাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা, ফুলদানিতে জমা ময়লা, সখের সবজি বাগান, ছাদে হাঁটার জায়গা— সবকিছুই নতুন করে সাজানো হয়েছে। কোথাও কোনো কিছুর যেন ঘাটতি না থেকে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি সিএসএফ’র চার সদস্যের।

সিএসএফ সদস্য সার্জেন্ট (অব.) নুরুন নবী বলেন, ‘ম্যাডাম বাসায় না থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই বাসা পরিষ্কার করা হয়। উনি যদি আজকে আসতেন, আজই থাকতে পারতেন। আমরা সেভাবেই বাসাটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখি

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment