আগুনে দগ্ধ মাহিনুরের মৃত্যু, ঘাতক অধরা

আগুনে দগ্ধ মাহিনুরের মৃত্যু, ঘাতক অধরা

মুরাদ হাসান : দীর্ঘ বারো দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার সকাল নয়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে ফতুল্লা পাইলট স্কুল রোড এলাকায় অগ্নিদগ্ধ মাহিনুর বেগম(৩৮)।

গত মাসের ২২ তারিখ রাতে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দুলাভাই নুরুইসলাম শ্যালিকা মাহিনুর কে গায়ে এসিড দিয়ে হত্যার চেস্টা চালায়।ঘটনার পরপর অগ্নিদগ্ধ মাহিনুরকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি কিরা হয়।

জানা যায়,গত মাসের ২২ তারিখ রোববার রাত সাড়ে ৮টায় ফতুল্লা থানার দাপা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন আলী আহম্মদের বাড়ির গলিতে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। দগ্ধ মাহিনূর স্থানীয় মেরীন এপ্যারেলস নামক একটি পোষাক তেরীর কারখানায় কাজ করতো।

স্থানীয় এলাকবাসী ও থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, নুর ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলীর প্রাইভেটকার চালক নুর ইসলাম তার দুর সম্পর্কের শালিকা গার্মেন্টকর্মী মাহিনুরকে দীর্ঘদিন যাবত কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাহিনুরকে নূর ইসলামের স্ত্রী হাসিনা বেগম মারধরসহ এলাকা ছাড়ার হুমকিও দেয়। হুমকির বিষয়টি মাহিনুর তার পরিবারের লোকজনকে জানান এবং থানায় অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন।

এ বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনার রাতে ঘাতক নুরইসলাম পূর্ব থেকেই মাহিনুরের বাসায় প্রবেশের গলিতে ওৎ পেতে ছিলেন। রাত সাড়ে ৮টায় নিজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে বাড়িওয়ালা আলী আহম্মদের বাড়ির গলিতে মাহিনুরের পথরোধ করে নুর ইসলাম। এসময় তিনি অতর্কিতভাবে বোতল থেকে জ্বালানী তেল মাহিনুরের মাথায় ও শরীরে ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুনে দগ্ধ মাহিনূরের ডাক চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে নুর ইসলাম সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাহিনুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। দীর্ঘ বারো দিন পর সকাল নয়টায় তিনি মৃত্যু বরন করেন।

ঘটনার পর থেকে নুরইসলাম পলাতক রয়েছে।তবে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে নুরুইসলামে স্ত্রী-পুত্র সহ অপর দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়।

মাহিনুরের মৃত দেহ তার গ্রামের বাড়ী বরিশালে দাফন করা হবে বলে স্থানীয়রা জানায়।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment