ফতুল্লায় হারিয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ বাড়ছে কিশোর অপরাধ!

নিয়াজ মো: মাসুম : ফতুল্লায় হারিয়ে যেতে বসেছে শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠ। খালি পড়ে থাকা জমি দখলের পরিক্রমায় ফতুল্লার পাড়া- মহল্লায় এখন খেলার মাঠ খুঁজে পাওয়া দুঃস্কর। যেসব খেলার মাঠ ছিল, সেগুলোর অধিকাংশই বেদখল হয়ে গেছে। খেলার মাঠ দখল করে সেই জায়গায় ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন, মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে হাতে গোনা যে কয়েকটি খেলার মাঠ রয়েছে, সেগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। ফলে অধিকাংশ শিশু-কিশোর খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমান প্রজন্ম মাঠে খেলাধুলা করতে না পেরে মোবাইল ও কম্পিউটারে গেমস খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। যন্ত্রনির্ভর খেলাধুলায় আসক্ত হওয়ায় তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে তারা পড়াশোনায় ঠিক মনোযোগী হচ্ছে না। তরুণ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশের জন্য খেলার মাঠ একটি অপরিহার্য বিষয়। মাঠে খেলাধুলা করলে যেমন শারীরিক সামর্থ্য বাড়ে, তেমনি মন সতেজ হয়।

যারা মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা করে তাদের অধিকাংশই বিপথগামী হয় না।বর্তমান সময়ে খেলাধুলার চর্চা নেই বলেই প্রতটি পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব বিস্তার লাভ করেছে।মাঠে গিয়ে খেলতে না পেরে ঘরমুখো হয়ে অনেকেই আবার মাদকের দিকে ঝুকে পরেছে।
ফতুল্লায় এখনো যে কয়েকটি মাঠ খেলার জন্য উপযুক্ত রয়েছে কিন্তু পরিচর্চার অভাবে মাঠে খেলাধুলা হচ্ছেনা তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফতুল্লার ডি,আই,টি, মাঠ,ফাজিলপুর বল্টুর মাঠ,তক্কার মাঠ, দাপা পাইলট স্কুলের মাঠ।সরজমিনে গিয়ে দেখা যাশ যে,ফতুল্লা ডি,আই,টি মাঠের অধিকাংশ জায়গা দখল করে দোকান ঘর ভাড়া দিয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহন করছে স্থানীয় অনেকেই।এখানে খেলাধুলা হয়না বললেই চলে।অথচ এক সময় ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল,ব্যাডমিন্টন,দাড়িয়াবান্দা,কাবাডি সহ সকল ধরনের খেলা হলো এই ডি,আই,টি মাঠ।বিশাল মাঠের তিনটি ভাগে বিভিন্ন বয়সীরা নানা খেলা খেলতো।দিনভর চলতো খেলাধুলা।এ মাঠে এক সময় জাতীয় ফুটবলার চুন্নু,স্বপন,বিদ্যু,মোঃ আলী,বাবু দাস,আরমানের মতো জাত খেলোয়াড়েরা এ মাঠে খেলেছেন।এ ছাড়া বাংলাদেশের সর্ব প্রথম সেঞ্চুরিয়ান মেহরাব হোসেন অপি, বিদ্যু, জাহাঙ্গীর, সুজন, আনিছ, জাকারিয়া, মনা, পাপ্পু, মৃদুল, শরীফ সহ দেশী বিদেশী জাতীয় আরো একাধিক ক্রিকেটার এ মাঠে খেলে গেছেন।সময়ের পরিবর্তনে আজ সে মাঠ চলে গেছে আজ অবৈধ দখলদারদের কবলে।মাঠের যে অংশ খালি রয়েছে সে খানটায় শুধুমাত্র শুক্রবারে দেখা যায় একদল ছেলেকে ফুটবল, ক্রিকেট খেলতে।একই অবস্থা অন্য মাঠগুলোর ক্ষেত্রেও।তবে পাইলট স্কুলের মাঠে অতিতের মতো প্রতিদিন খেলাধুলা না হলে ও জাতীয় পর্যায়ের স্কুল খেলা হলে স্কুলের ছাত্ররা মাঠটিতে খেলাধূলা করে থাকে।তবে পাইলট স্কুল ভবনের বাইরে বালুর মাঠে প্রতিদিনই শিশু- কিশোর থেকে শুরু করে উঠতি বয়সী যুবকদেরকে খেলাধুলা করতে দেখা করতে যায়। ফাজিলপুর বল্টুর মাঠটিতে এখন খেলাধুলা হয়না।সেখানে এখন ডাইংয়ের কাপড় শুকানো হয়।অপরদিকে তক্কার মাঠ সঠিক পরিচর্চার অভাবে মাঠে ঘাস বড় হয়ে খেলাধূলার অনুপযোগি হয়ে পরায় এখন আর কেউ খেলেনা।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment