দেশের মানুষ যেকোনো দুর্যোগময় পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

নারায়ণগজ্ঞ নিউজ ২৪ ডট কম : বাংলাদেশের মানুষ যেকোনো দুর্যোগময় পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসী। তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো ক্ষমতা রাখে। করোনার সঙ্গে সঙ্গেই যেমন আমরা ঝড়-বন্যা সবই মোকাবিলা করে যাচ্ছি। এভাবেই আমাদের প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে হবে। শুক্রবার সকালে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০’ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসাবে ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মহাপরিচালক। এছাড়া বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মতিয়া চৌধুরী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে সংযুক্ত ছিলেন এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের এফএও সদস্যভুক্ত ৪৬টির দেশের আড়াই শতাধিক প্রতিনিধি, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব এবং বিভাগীয় কমিশনাররা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিশ্চয়তা থাকতে হবে। কারণ করোনভাইরাসের কারণে যখন সারাবিশ্ব স্থবির, তখন একটা দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে যেন তার প্রভাব না পড়ে, আমাদের দেশের মানুষকে যেন এ পরিস্থিতিতে কোনো কষ্ট ভোগ করতে না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছি। ‘এই প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। আমাদের কৃষকদেরই সবচেয়ে বেশি সুবিধা দিয়ে যাচ্ছি, যেন তারা তাদের কাজগুলো ভালো করে চালাতে পারে। আমরা এরই মধ্যে সাধারণ মানুষ, গরীব মানুষ, নিম্নবিত্ত মানুষ, যারা কোনো কাজ করতে পারেনি, তাদের জন্য প্রায় ২ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করে যাচ্ছি। ১০ টাকা কেজি দরের চাল অনেকে হাত পেতে নেবে না। তাই মাত্র ১০ টাকা কেজিতে যেন তারা চাল কিনতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে ২৫১ কোটি টাকা খরচ করছি। ৮৬০ কোটি টাকা কৃষকদের সহায়তায় দিচ্ছি, যেন তাদের উৎপাদতি পণ্য বাজারজাত করতে পারেন,’Í বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, কৃষি খাতের যান্ত্রিকীকরণে ৩ হাজার ২২০ কোটি বরাদ্দ রেখেছি। কৃষকরা যেন খুব অল্প টাকায় কৃষি যন্ত্রপাতি কিনতে পারে, সে জন্য বাকি অর্থ সরকারের পক্ষ থেকেই দেওয়া হচ্ছে। কৃষি সহায়তার জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ করেছি। সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছি কৃষি সহায়তা হিসেবে, যেন কৃষক উৎপাদনে উৎসাহ না হারায়। দেশের মানুষের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসী। তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো ক্ষমতা রাখে। করোনার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়-বন্যা সবই মোকাবিলা করে যাচ্ছি। এভাবেই আমাদের প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে হবে। এখন আমাদের লক্ষ্য, আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত থাকে। প্রতিটি মানুষের ঘরে যেন খাবার পৌঁছায়। দরিদ্র যারা, তাদের বিনা পয়সায় খাবার দিয়ে যাচ্ছি। এটা সবসময় অব্যাহত রাখব, একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না। একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রতিটি মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে, কোনো মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগবে না। আড়াই দশক আগের বাংলাদেশ ও এখনকার বাংলাদেশের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর ইতালিতে গিয়েছিলাম। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা সব ধরনের সহযোগিতা করেছিল। তখন ২৪ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল বাংলাদেশ। আর ২০০১ সালে যখন আমাদের পাঁচ বছর পূর্ণ হলো, তখন ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে যাই। বাংলাদেশে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম। অথচ আমরা ক্ষমতায় আসার আগের ২১ বছরে, জাতির পিতাকে হত্যার পর বাংলাদেশ আর এগোতে পারেনি। ওই সময় সামরিক শাসকদের লক্ষ্য ছিল, বাংলাদেশ যেন পরনির্ভরশীল দেশ হয়ে থাকে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের মতো ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেও সরকার কৃষির আধুনিকায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষক যেন সব সুবিধা পায়, তার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। কৃষকদের সহায়তা করার জন্য প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষক উপকরণ কার্ড পাচ্ছে। আমরা ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দিয়েছি। এ কারণে এখন প্রায় ১ কোটি ৭০ হাজার ১৪৩ জন কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। কৃষি বলতে কেবল ফসল নয়, আওয়ামী লীগ সরকার মাছ-মাংস-ডিম-সবজি উৎপাদনের জন্যও যুগোপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আর সব ধরনের কৃষির উৎপাদন বাড়াতে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর থেকেই আওয়ামী লীগ সরকার গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বলেও জানান তিনি। এ কারণেই লবণাক্ত সহিষ্ণু ফসলের জাত, জলমগ্ন পরিবেশ সহিষ্ণু ধানের জাতসহ বিভিন্ন ধরনের ৬৫৫টি উচ্চ ফলনশীল ও বৈরী পরিবেশ সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment