হেফাজত কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ র‌্যাবের সংঘর্ষ: গাড়িতে আগুন

নারায়ণগজ্ঞ নিউজ ২৪ ডট কম : হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুলকে দ্বিতীয় স্ত্রীসহ অবরুদ্ধ করে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় হেফাজতের বিক্ষুব্ধ কর্মী সমর্থকদের সাথে পুলিশ ও র‌্যাবের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলছে। হেফাজতের কর্মীরা পুলিশ ও র‌্যাবকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও র‌্যাব রাবার বুলেট ও কাদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে কয়েক রাউন্ড। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত পৌনে ৯টা সংঘর্ষ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোনারগাঁয়ের রেয়ল রিসোর্ট এর সামনে এই সংঘর্ষ চলছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এরআগে সোনারগাঁও রয়েলে রিসোর্ট এর হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে অবরুদ্ধ মামুনুল হক ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে নিয়ে গেছে হেফাজতের শত শত কর্মী। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ন-মহাসচিব মামুনুল হককে দ্বিতীয় স্ত্রীসহ অবরুদ্ধ করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার খবরে হেফাজতের কয়েকশত লোকজন মাগরিবের নামাজের পর রয়েল রিসোর্টে হামলা চালায়।

এসময় কয়েকশত হেফাজত কর্মী ম্লোগান দিয়ে সোনারগাঁও থানা ঘেরাও করতে চাইলে মামুনুল হক একটি হ্যান্ড মাইকে তাদের শান্ত হতে বলেন। এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বারন করেন। তিনি বলেন, আমি প্রমান করবো আমার সাথে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী। তাছাড়া স্ত্রীকে নিয়ে আমি যেখানে সেখানে ঘুরতে যেতে পারি। কিন্তু ছাত্রলীগ-যুবলীগের উচ্ছৃংখল লোকজন আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেছে। আমি আইনগতভাবেই বিষয়টি দেখবো।

পরে হেফাজতের লোকজন মামুনুল হক ও তার স্ত্রীকে নিয়ে বিক্ষোভ করতে করতে মোগরাপাড়া হাবিব পুর ঈদগাঁও মাঠে জমায়েত হয়। সেখানে হেফাজতের নেতারা বক্তব্য রাখার পর রাত সোয়া ৮টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে মামুনুল হক তার স্ত্রীকে তুলে দেন। তারা ঢাকার দিকে চলে গেছেন।

ওদিকে মামুনুল হক চলে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ হেফাজতের কর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে একটি বাস ও একটি ট্রাকের আগুন দেয়। এতে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে মহাসড়ক থেকে হেফাজতের কর্মীদের সরিয়ে দেয়। পরে বিক্ষুদ্ধ হেফাজতের কর্মীরা পুনরায় রয়েল রিসোর্ট এর সামনে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাধে।

জানা গেছে, শনিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরের পর হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হক তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে রয়েল রিসোর্ট এর ৫০১ নাম্বার রুমে উঠেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় ছ্ত্রালীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী ওই রুমে জোরপুর্বক ঢুকে মামুনুল হককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তারা মামুনুলহককে অশ্লীলভাষায় গালমন্দ করেন। তার স্ত্রীকে নিয়েও কুরুচিপুর্ন মন্তব্য করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment