প্রাইমারী স্কুলের গন্ডি না পেরুনো রোজেল দেখালেন অনার্সের সনদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক : জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক পদ বাগিয়ে নিতে শিক্ষা সনদের ক্ষেত্রে প্রতারনার আশ্রয় নেয়া প্রাইমারী স্কুলের গন্ডি না পেরুনো সেই জাহিদ হাসান রোজেল এবার ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক প্রার্থী হয়েছেন।

জেলা বিএনপির রাজনীতিতে “ওয়ান ম্যান সো” বলে খ্যাত জাহিদ হাসান রোজেলের প্রতারনা এ বিষটি দীর্ঘদিন গোপন থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এক’কান দু’কান হয়ে চলে আসে সাংবাদিক মহলে।

জানা যায়, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল চতুর্থ শ্রেনীতে পড়াকালীন সময়ে শহরের সোনার বাংলা মাকের্টের পেছনে শিল্পি প্রিন্টং নামক একটি প্রেসে চাকুরীতে যোগ দেয়।

পরবর্তীতে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের খালাতো ভাইয়ের সুবাদে এবং নিজ বলয়ের স্বার্থে কুটচালে পারদর্শী জাহিদ হাসান রোজেল কে নিজ কমিটির সহ- সভাপতি পদে স্থান দেন। পরবর্তীতে ২০০২ সালে জেলা কমিটি গঠন কালে মেশারফ হোসেন সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে জাহিদ হাসান রোজেল প্রার্থী হয়।

এ সময় কেন্দ্র থেকে শিক্ষা সনদ দাবী করলে সভাপতি প্রার্থী মোশারফ হোসেন নিজ রাজনৈতিক ফায়দা আদায়ে কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকে সাথে নিয়ে তড়গড়ি করে রাজধানীর নিলক্ষেত থেকে জাল সনদ পত্র তৈরি করে তা কেন্দ্রে জমা দেয়। সেখানে জাহিদ হাসান রোজেলের শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা উল্লেখ্য করা হয় কাশিপুর হাজী উজির আলী স্কুল থেকে এস,এস,সি, রাজধানীর ঢাকা(ঢাকাল) কলেজ থেকে এইচ,এস,সি এবং জগন্নাথ থেকে অনার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

জেলা ছাত্রদলের সম্মেলনের দিন তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি সাহাবুদ্দিন লাল্টু শিক্ষা সনদ যাচাই- বাছাই করতে গিয়ে দেখতে পান যে ঢাকা কলেজের জায়গায় সনদ পত্রে লেখা রয়েছে”ঢাকাল” কলেজ।

এ বিষয়ট তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি সাহাবুদ্দিন লাল্টুর দৃস্টিগোচর হওয়ায় তিনি তখন প্রশ্ন করেন যে ” ঢাকাল” কলেজ টি কোথায়? সাহবুদ্দিন লাল্টুর এমন প্রশ্নে হচকিত হয়ে পরেন তৎকালীন সভপতি প্রার্থী মোশারফ হোসেন। স্বীয় স্বার্থ হাসিলে মোশারফ হোসেন তখন সাহাবুদ্দিন লাল্টুকে ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেন।

শুধুমাত্র জাকির খানের খালাতো ভাই পরিচয়ে এবং জাল সনদ দিয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেয়া জেলা বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে “ওয়ান ম্যান শো” বলে খ্যাত জাহিদক হাসান রোজেল ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক প্রার্থী হয়েছেন।

যেখানে শুধুমাত্র শিক্ষাগত যোগ্যতার কারনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও সোনারগাঁওয়ের আব্দুল মান্নান কে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদককে শিক্ষাগত যোগ্যতার অজুহাত দেখিয়ে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক করা হয়নি সেখানে জাহিদ হাসান রোজেলের মতো প্রাইমারী স্কুলের গন্ডি না পেরুনো মহাধূর্ত প্রতারক জাহিদ হাসান রোজেল কি করে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক পদে স্থান পেলেন এবং ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক প্রার্থী হয়েছেন তা নিয়ে সর্বত্রই চলছে আলোচনা- সমালোচনা।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেলের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়ায় যায়।

তবে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, অনেক আগের বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment