তফসিলের আগেই নাসিকের নির্বাচনী মাঠ সরগরম

নারায়ণগন্জ নিউজ ২৪ ডট কম : নারায়ণগঞ্জে সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার আগেই সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতারা নির্বাচনে তেমন আগ্রহ না দেখালেও সরকারী দলে আগে থেকেই শুরু হয়েছে নানা প্রস্তুতি।

তবে সোমবার (২৩ আগষ্ট) নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে ডিসেম্বরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় সব নির্বাচন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হওয়ায় নতুন করে শুরু হয়েছে তোরজোড়। কোন দল থেকে কে প্রার্থী হচ্ছেন? ১৮ বছর ধরে দায়িত্বে থাকা মেয়র আইভী কি এবার আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাবে? নাকি অন্য কেউ। বিএনপি কি নির্বাচনে যাবে? এসব নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে নগরবাসীর মাঝে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীকে পরাজিত করে ২য় বারের মতো সিটি মেয়র নির্বাচিত হন নৌকার প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী।

এরআগে ২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে প্রথম চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় আরও ৩ বছর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে বিদায়ী মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী ছাড়াও আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছে। তবে সবাই তাকিয়ে আছেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার দিকে। তিনি যাকে মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষেই সবাই একজোট হয়ে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন অনেকেই। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা পরিবর্তন চান। মাঠে থাকা এমনি একজন প্রার্থী হলেন এড. খোকন সাহা। তিনি মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, নেত্রী (শেখ হাসিনা) যাকে নৌকা দেবেন তার পক্ষেই কাজ করবো। তবে বিগত ১৮ বছর ধরে যিনি চেয়ারে আছেন তার দ্বারা দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা নিপীড়িত নির্যাতিত হয়ে আসছেন। দলের জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য তিনি কিছুই করেননি। সিটি কর্পোরেশন সকল কাজ তিনি তার নিজস্ব সিন্ডিকেট ও বিএনপির কাউন্সিলরসহ বিরোধীপক্ষকে দিয়েছেন। জামায়াত-বিএনপিসহ সরকার বিরোধীদের নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়ার যথেষ্ট তথ্য প্রমান ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। অপরদিকে দলীয় নেতা-কর্মীদের উল্টো মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে একের পর এক হয়রানী করে চলেছেন। তাই আমাদের দাবী থাকবে, নেত্রী যাকেই দেন আপত্তি নাই, কিন্তু পরিবর্তন চাই।

তৃনমুল নেতা-কর্মীরা জানান, প্রতিবারের মতো এবারও আগে থেকে নির্বাচনী মাঠ গরম করার প্রক্রিয়া হিসেবে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে দোষারোপ ও বিষেধাগারের রাজনীতি শুরু করেছেন। যেভাবে বিগত নির্বাচনগুলোতে স্বাধীণতা বিরোধী বিএনপি-জামায়াত ও বিরোধীপক্ষের সমর্থন পেতে ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারকে টার্গেট করেছেন। সেই পুরানো পন্থা ফের নতুন করে শুরু করেছেন।

তারা আরও জানান, মেয়র আইভীর মায়ের মৃত্যুতে রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে এমপি শামীম ওসমান সমবেদনা জানাতে তার বাসায় যান। যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্থ্যি নেমে আসে। তার কয়েকদিন পরই শামীম ওসমানের পিতা-মাতা-ভাই এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কবরে শ্মশানের মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়ার ঘটনা ঘটে। শামীম ওসমান এবিষয়ে মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীকে কোন দোষারোপ করেননি। বরং মিডিয়ায় বলেছেন, তার মা মারা গেছে ৪০ দিন হয়নি। সে হয়তো কিছুই জানেনা। এদিকে ঘটনার পরদিনই কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেয়র আইভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিকে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর মতো উল্টো ওসমান পরিবারকে দোষারোপ করেন। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় সর্বত্র।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে খুব একটা মাথা ব্যাথা নেই স্থানীয় বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের। ব্যক্তিগতভাবে একাধিক দলীয় নেতা মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দিয়ে রেখেছেন। তবে দল নির্বাচনে গেলে তখন সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা আগে সেই সিদ্ধান্ত হোক। তারপরও তো দলীয় প্রার্থী। দেশে যে নির্বাচনী কালচার চলছে তাতে এখন নির্বাচনে না যাওয়াই ভালো। তবে বিএনপি জোট নির্বাচনে গেলে অবশ্যই করোনাকালে যাদের অবদান তাদের মধ্য থেকেই প্রার্থী করার বিষয়ে মতামত দিবো।

এব্যাপারে মেয়র আইভীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে গত ২৭ জুন নগরীর ইসদাইরে একটি মসজিদ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর করতে গিয়ে ৩য় বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষনা দিয়েছেন বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেছেন, আল্লাহ আপনাদের জন্য আমাকে এই চেয়ার দিয়েছেন। আমার কাজ হচ্ছে, আপনাদের কাজ করে দেয়া। কেউ খারাপ বলবে আবার কেউ ভালো বলবে। কিন্তু দায়িত্ব আপনাদের বিবেকের উপর। সব কিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরে হবে নির্বাচন, আমিও আমার নেত্রীর কাছে প্রতীক চাইবো। আমি আবার আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসবো, ভোট দেয়া না দেয়া সেটা আপনাদের ব্যাপার।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment