সরকারি কর্মকর্তাদের স্যার বা ম্যাডাম বলে সম্বোধনের কোনও রীতি নেই – জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

নারায়ণগন্জ নিউজ ২৪ ডট কম : ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২ মাসে প্রশাসনে এক লাখ ৪০ হাজার ৮৬০টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ সংলাপের আয়োজন করে।

বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় সংলাপে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেনুর মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ে ব্যাপকভাবে পদ সৃজন করেছি। পদ সৃজনের কাজটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় করে থাকে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমরা প্রশাসনে এক লাখ ৪০ হাজার ৮৬০টি পদ সৃজন করেছি। নিয়োগের জন্য ৭ হাজার ৯৪৮টি পদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। চার হাজার ৭২৬টি যানবাহন টিও অ্যান্ড ই-তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৪৮ হাজার ৫১০টি পদ বিলোপে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে।

এই সময়ে ৩৭তম বিসিএসের মাধ্যমে এক হাজার ৪৯টি, ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে দুই হাজার ৩৪টি ও ৩৯তম বিসিএসের মাধ্যমে ছয় হাজার ৭২৭টিসহ মোট ১০ হাজার ১১০টি পদে ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্যাডার সার্ভিসের পাঁচ হাজার ৭৪৪ জনকে দেশে ও ৪৭৭ জন কর্মকর্তাকে বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিসিএস প্রশাসন একাডেমির প্রশিক্ষণ মডিউল যুগোপযোগী করেছি।

সরকারি কর্মকর্তাদের স্যার বা ম্যাডাম বলে সম্বোধনের কোনও রীতি নেই বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, স্যার শব্দের অর্থ মহোদয়, আর ম্যাডাম অর্থ মহোদয়া। রুলস অব বিজনেসে দুটোর কোনটিই নেই।

ডিজিটালাইজেশনের সুবিধা ব্যবহার করে দ্রæত কাজ করার জন্য ১৯টি সফটওয়্যার প্রস্তুত করা হচ্ছে জানিয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৮০৩টি আইন ও বিধিবিধানের বিষয়ে বিধিগত মতামত প্রদান করেছি ও ৪৮৪টি নিয়োগবিধি প্রবিধানের সংশোধনও করা হয়েছে এই সময়ের মধ্যে।

তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে তার প্রাপ্য সম্মান-মর্যাদা দিয়ে তাদের সেবক হিসেবে কাজ করবে- এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। সেজন্য আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে আমরা যুগোপযোগী পদায়ন নীতিমালা তৈরি করতে চাই।

আমরা দক্ষ, জবাদিহিতামূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে চাই। সেটাই আমাদের লক্ষ্য’ বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসিল্যান্ড অফিসে অনেক ঝামেলা ছিল, এখন ডিজিটালাইজেশনের কারণে সেই ঝামেলা নেই। এখন ৯৫ শতাংশ কর্মকর্তাই সফল হচ্ছেন। বাকি ৫ শতাংশ কর্মকর্তা পাবলিক কমিউনিকেশনে সুন্দর করে কথা বললে এমন হতো না। কাউকেই তার আইনি এখতিয়ারের বাইরে আচরণ করা উচিত না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কীভাবে কাজ করতে হবে- সে বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনাগুলো তুলে ধরেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতির পিতার নির্দেশনা ছিল‑ যারা সেবা নিতে আসেন তাদের দিকে তাকাও, তারা তোমার বাবার মতো, ভাইয়ের মতো, আত্মীয়ের মতো। সেবা নিতে আসে জনগণ। তাদের টাকায় তোমাদের বেতন হয়।

বিভাগীয় কমিশনার থেকে মাঠ প্রশাসনকে আমরা নির্দেশনা দেই- জনগণের সঙ্গে মিশে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে এখানে কোনও ভেদাভেদ থাকবে না। হাসিমুখের অ্যাটিচিউটটা খুবই ইম্পর্টটেন্ট। দুর্ব্যবহার দুর্নীতির শামিল, এটা কখনও করা যাবে না।

সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাজনীতিকদের মতানৈক্য নিয়ে এক প্রশ্নে ফরহাদ হোসেন বলেন, কয়টি ঘটনা ঘটেছে সেটা দেখা দরকার। বরিশালে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। করোনার মধ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অত্যন্ত আন্তরিকভাবে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা বেশি জনমুখী হয়েছি। বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করছি।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment