স্বামীর নির্যাতন ও মারধরে ঘরছাড়া শিউলী

বিশেষ প্রতিবেদনঃ  বিয়ের মাত্র আট মাসের মাথায়ই ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছে ফতুল্লার কুতুবপুরের গৃহবধূ শিউলি আক্তারের জীবনে। স্বামী আফতাবুর রহমান আলভী ও তার পরিবারের সদস্যদের অসহনীয় নির্যাতন, মারধর ও যৌতুকের দাবি, প্রাণনাশের চেষ্টাতে শিউলি এখন আতঙ্কগ্রস্ত। প্রভাবশালী স্বামী ও তার পরিবারের হুমকির মুখেও শিউলি সুরাহার আশায় ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৬ অক্টোবর বিয়ে হয় কুতুবপুরের পশ্চিম দেলপাড়ার কুসুমবাগ নিবাসী শিউলির। শিউলীর স্বামী ঢাকার রাজারবাগ নিবাসী আলভীর তৃতীয় বিয়ে এটি।

বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক আলভীর পরিবার বেশ পছন্দ করেই শিউলিকে কন্যা হিসেবে ঘরে তোলেন। শিউলির দরিদ্র পরিবার বেশ কষ্ট করে বিয়েতে শিউলিকে চার ভরি স্বর্নালংকারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম দেন।

কিন্তু শিউলির হাতের মেহেদীর রঙ না মুুছতেই তার উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। কম স্বর্ণ দেওয়ায় ও যৌতুকের দাবিতে নিয়মিত তাকে মারধর কর হতে থাকে৷ এমনকি তাকে মেরে ফেলতেও চাওয়া হয় একাধিকবার।

সর্বশেষ গত মার্চ মাসের ৪ তারিখ ব্যাপক নির্যাতন করে শিউলিকে এক কাপড়েই পৈতৃক নিবাসে ফেলে রেখে যায় আলভী। এরপর শিউলির পরিবারের পক্ষ থেকে আলভী ও তার পরিবারের সাথে অসংখ্যবার যোগাযোগ করা হয়৷ তবে আলভী ও তার পরিবার জানায়, তারা শিউলিকে চেনে না। এমনকি বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

এমতাবস্থায় বেশ অসহায় অনুভব করছেন শিউলি। বিচারের আশায় তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রতিকার পাচ্ছেন না। শিউলি বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আলভী ও তার পরিবার আমার উপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে৷ বিয়ের আগে জানতাম, আলভী আগে একটি বিয়ে করেছিলো৷ কিন্তু পরবর্তীতে আলভী আমাকে জানায়, সে আরো একটি বিয়ে করেছিলো। তবে সেই বিয়ের কোনো কাবিননামা হয়নি৷ তালাকবিহীন অবস্থায় ওই নারী আলভীকে ছেড়ে চলে যায়।’

শিউলী আরো বলেন, ‘ যৌতুকের দাবিতে আমাকে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়েছে৷ কিন্তু আমার পরিবারের পক্ষে তা দেওয়া সম্ভব নয়৷ ফলে নির্যাতনের মাত্রাও বাড়ে৷ ব্যাপক মারধরের পরে গত তিন মাস যাবত আমাকে আমাদের বাসায় ফেলে রাখা হয়েছে৷ একজন নারী হিসেবে আমি সবার কাছে আমার প্রতি হওয়া অবিচারের বিচার চাই।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আফতাবুর রহমান আলভীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ তবে তার ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল নাম্বার বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি৷ তার পিতার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কোনোপ্রকার কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান৷ পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment