বন্দর উপজেলার ৫টিঁ ইউনিয়নে এখনও জলাবদ্ধতা ও সড়কগুলোর বেহাল দশায়

নারায়ণগন্জ নিউজ ২৪ ডট কম ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রভাবশালী এমপি একেএম সেলিম ওসমানের সংসদীয় এলাকা বন্দর উপজেলার ৫টিঁ ইউনিয়নে এখনও জলাবদ্ধতা ও সড়কগুলোর বেহাল দশায় পরিপূর্ণ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কার না হওয়ায় এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে দিন দিন মানুষের কষ্টের কোন সিমা নেই। বন্দর উপজেলাধীণ ওই ৫টি ইউনিয়নের মানুষের মনে এখন মৃদু কান্না বইতে শুরু করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাধিক বার বলেও সুফল মিলেনি।  চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে ইউনিয়ন পর্যায়ের মানুষগুলো।  চলমান বর্ষায় বৃষ্টির পানি আর কাদা মাটির মাখামাখিতে হেলে-দুলে চলছে যানবাহন। প্রতিনিয়ত নানা দুর্ঘটনাও ঘটছে এসব সড়কে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচলে বিপন্ন হয়ে উঠেছে জনজীবন,নাভিশ^াসে পরিনত ওই ইউনিয়নের মানুষগুলো।

সূত্রে জানা যায়,বন্দর কাইকারটেক ব্রীজ সংলঘœ মুছাপুর ইউনিয়নস্থ চরইসলাম পুর ভঙ্গুর সড়কটিতে খুবই নাজুক অবস্থা। প্রায় ৫হাজার লোক ওই পথ দিয়ে চলাফেরা করে। বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে কাদামাটি ও পানিতে মাখামাখি হয়ে রাস্তাজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এখন। এতে বর্তমানে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে উঠেছে এ সড়কটি। ফলে দুর্ভোগ বেড়েছে যাত্রী সাধারণ ও স্থানীয়দের।

অপরদিকে ধামগড় ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে কাজী পাড়া থেকে হালুয়া পাড়া রাস্তাটিতে এখন ছোট বন্যায় পরিনত হয়েছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনাও ঘটছে বলে জানান যাত্রীসহ সাধারণ বাসিন্দারা। ৫টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এলজিইডির অধিকাংশ সড়কের এমন বেহাল অবস্থা।

মদনপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের চানপুর থেকে সাহেব বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ছোট ছোট গর্ত রয়েছে। কোন যানবাহন সহজে যেতে চায়না। গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয় ওই পথে চলাচলরত সাধারন যাত্রীদের।

কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ফরাজীকান্দা থেকে কলাগাছিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কগুলো যেন ভুতুরে রাস্তায় পরিনত হয়েছে। দূভোর্গের কোন অন্ত নাই। যানবাহন চলাচলে প্রায় সময় দূর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে পথচারীরা।

বন্দর ইউনিয়নের কলাবাগ থেকে চিনার্দী রাস্তাটি ওই এলাকার মানুষের অভিশাপে পরিনত ছিল। কিছুদিন আগে ওই রাস্তাটির কাজ ধরলেও মন্থর গতিতে চলছে নির্মান কাজ। আবার মাঝে মাঝে বন্ধ থাকতেও দেখা যায়।

স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেই বলেন,এখন ইউনিয়নের রাস্তা দিয়ে পশু যেতেও ভয় পায়। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গা রাস্তায় চলাচল করতে করতে হাপিয়ে উঠেছি। মনে হয় আদিম যুগে এখনও আছি। জনপ্রতিনিধিদের বলে কোন লাভ হয় না। তাই আর বলিনা। অথচ আমাদের এমপি একজন দানবীর মানুষ। ব্যবসায়ী নেতা। অথচ তার নির্বাচনী এলাকার রাস্তাগুলি এমন নাকাল অবস্থা। দু:খ লাগে। আর সিটি এলাকার রাস্তাগুলি দেখলে মনটা জুড়িয়ে যায়। মনে হয় ইউরুপে আছি। ইউনিয়নবাসীদের লোকানো কান্নার দিন কবে শেষ হবে। কবে এমপি মহোদয় আমাদের দূর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসবে। আমি এমপি মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষের প্রতিক্ষায় রইলাম।

এদিকে বন্দর উপজেলা এলজিইডির উপ-প্রকৌশলী কামরুজ্জামান বলেন,গ্রামীণ এসব সড়ক সংস্কারের যে চাহিদা রয়েছে এর তুলনায় সরকারের বরাদ্দ অনেক কম হওয়ায় দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন মানুষ। গত অর্থবছরে বন্দর উপজেলার ৮টি রাস্তা সংস্কারের টেন্ডার জমা পড়েছিল। এরমধ্যে ১টি পাশ হয়েছে। বাকি ৭টি রাস্তা সংস্কারের ফাইল আসেনি। প্রক্রিয়াধীণ রয়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment