রূপগঞ্জ ট্রাজেডি : স্বজনের কংকাল মিলবে ডিএনএটেষ্টে

নারায়ণগন্জ নিউজ ২৪ ডট কম : নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জের ভুলতা কর্ণগোপ এলাকায় সজীব গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সেজান জুসের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৫৩ জনের মৃত দেহ উদ্ধার করেছে । এর মধ্যে ৩ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। আগুনে লাশ পুড়ে কংকাল হয়ে যাওয়ায় ৫০জনের কোন পরিচয় সনাক্ত হয়নি। তবে ডিএন টেষ্টের মাধ্যমে এদের পরিচয় সনাক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্তব্দ হয়ে পড়েছে রুপগঞ্জ। স্বজনহারাদের আহজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠে।

খোজ নিয়ে জানা গেছে,অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত্র হয় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় । গতকাল শুত্রবার বেলা ৩টা দিকে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট ২২ ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে ফায়ার সার্ভিস। এরই মধ্যে বেলা ১টার দিকে কারখানাটি থেকে বের করে নিয়ে আসা হয় একের পর এক লাশ। পরে তাদের পোষ্ট মর্টেম করা হয় লাশ গুলো নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বপ্না রাণী (৪৫) ও মিনা আক্তার (৩৩) নামে দুজন শ্রমিক মারা পরে রাতে মারা যায় শ্রমিক মোরসালিন(২৫) । শুক্রবার দুপুরের দিকে একে এক লাশ উদ্ধার করা হয়।
শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত সজীব গ্রগ্পর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সেজান জুস কারখানায় প্রায় সাত হাজার শ্রমিক কর্মচারী কাজ করেন। সাততলা ভবনে থাকা কারখানাটির নিচতলার একটি ফ্লোরের কার্টন থেকে হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত। এসময় আগুনের লেলিহান শিখা বাড়তে শুরু করে। এক পর্যায়ে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

এসময় কালো ধোঁয়ায় কারখানাটি অন্ধকার হয়ে যায়। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। আবার কেউ কেউ ছাদ থেকে লাফ দেন। এসময় ঘটনাস্থলেই রানী ও মিনা আক্তার নামের দুই নারী নিহত হন। পরে মারা যায় মুরসালিন। ভবনটি ৪র্থ তলার সিড়ির গেট বন্ধ থাকায় সেখান থেকে কোন শ্রমিক বের হতে পারেনি। ঐ ফ্লোর থেকে বেশীর ভাগ লাশ উদ্ধার হয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, আগুনের ঘটনায় কতোজন নিখোঁজ আছেন তার একটি তালিকা প্রস্তুত করতে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে সেই তালিকা তৈরির কাজ চলছে। স্বজনদের দাবি অনুযায়ী নিখোঁজদের নাম তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে। একই সাথে যারা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছে তাদেরও একটি তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট এখনো একযোগে করে । কিন্তু কারখানাটির আশপাশে পানির ব্যবস্থা কম থাকায় একদিকে আগুন নিয়েন্ত্রনে আনা হলেও আরেক দিকে আগুন লেগে যায়। কারখানটির উপরের ফ্লোরগুলোতে প্লাটিকসহ দাহ্য পদার্থ থাকায় বার বার আগুন জ¦লে উঠছে। প্রায় ২২ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে।

ফ্লোর তালাবদ্ধ থাকায় বেড়ে যায় নিহতের সংখ্যা :

সেজান জুসের কারখানায় আগুন লাগার সময় ভবনের চতুর্থ তলার সিড়ি গেট তালাবদ্ধ থাকায় শ্রমিকরা কেউ বের হতে পারেনি। এতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। তারা জানান, ফ্লোর তালাবদ্ধ না থাকলে এতো প্রাণহানি হতো না। কারখানায় বিভিন্ন ধরনের ক্যামিকেল থাকায় অগ্নিকান্ডের সময় দীর্ঘ হয়। সবশেষ ৫৩জনের লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে
ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা জানান, অগ্নিকান্ডের সময় অনেক ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন। এখনও বহু শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে। তবে কারখানার একটি সিঁড়ি বন্ধ না থাকলে অনেক প্রাণ বাঁচানো যেত বলে মনে করছেন ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দেবাশিষ বর্ধন। ঘটনাস্থলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা গাড়ির মই সেট করে ছাদ থেকে ২৫ জনকে উদ্ধার করেছি। বাকিরা যদি ছাদে উঠতে পারত, আমরা কিন্তু বাঁচাতে পারতাম।

দেবাশিষ বর্ধন আরও বলেন, চতুর্থ তলায় যারা ছিলেন, ‘সেখান থেকে ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি তালাবদ্ধ ছিল। আর নিচের দিকে সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে ছিল ভয়াবহ আগুন। উনারা নিচের দিকেও আসতে পারেন নাই, তালাবদ্ধ থাকায় উনারা ছাদেও যেতে পারেন নাই।’

ডিএন এ টেষ্টের মাধ্যম্যে সনাক্ত হবে লাশের পরিচয় :

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের অগ্নিকাÐের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির লাশ দেখে চেনার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতে স্বজনদের কাছে তা হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবাস চন্দ্র সাহা শুক্রবার দুপুরে বলেন, এখন পর্যন্ত যাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের শরীর এতটাই পোড়া যে লাশ দেখে চেনার উপায় নেই। ঢাকা মেডিকেলের মর্গে লাশগুলো রাখা হবে। স্বজনদের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন :

অগ্নিকাÐের ঘটনায় সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন। ঢাকা নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শামীম ব্যাপারী বলেন, তাঁকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। অগ্নিকাÐের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি এবং এতে কারও দায় ছিল কি না, এসব বিষয় দেখা হবে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন থেকে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা এবং আহত ব্যক্তিদের ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।

আগুন নেভাতে বিলম্বে ভাংচুর শটগান লুট :

দীর্ঘ সময়েও রূপগঞ্জের সেভান জুস ফ্যাক্টরির আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন স্থানীয়রা। হামলায় ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যরাও আহত হন। এসময় হামলাকারীরা কারখানার গেটের সঙ্গে থাকা আনসার ক্যাম্পেও হামলা চালায় ও তিনটি শটগান ছিনিয়ে নেয়। পরে অবশ্য দুটি শটগান উদ্ধার করা হলেও একটি শটগান উদ্ধার করা যায়নি। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় হামলাকারীরা কারখানার অভ্যন্তরে থাকা বেশকিছু গাড়ি ও মোটরসাইকেলেও ভাঙচুর চালায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন লাগার পর থেকে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভাতে চাইলে গেটের সামনে সিকিউরিটি গার্ডরা দুর্ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় চলে যাওয়ার পরও আগুন নেভাতে না পারায় সকালে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। পরে তারা কারখানায় হামলা চালান। এসময় তারা কারখানার প্রশাসনিক ভবনের জানালার কাঁচ, দরজা একটি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস ভাংঙচুর করে। এসময় তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ট্রাক ভাঙচুর করে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম জানান, স্থানীয় উৎসুক জনতা কিছুটা উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলো। পরে পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

৩০ শ্রমিককে বাচালেন তাজুল :

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রæপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাÐে পুড়ে যাওয়া ভবনটিতে প্রায় ১৭ শ শ্রমিক কাজ করতেন। অগ্নিকান্ডের সময় ওই ভবনের পঞ্চম তলায় থাকা প্রায় ৩০ জন শ্রমিককে দড়ি দিয়ে ছাদ থেকে নিচে নামিয়ে বীরত্বে পরিচয় দিয়েছেন তাজুল ইসলাম। যার সহযোগিতায় ওই শ্রমিকরা নিরাপদে নামতে পেরেছেন, এবং তাদের কেউ আহত হননি।

শ্রমিকদের নামাতে গিয়ে তাজুল ইসলাম নিজেও কিছুটা আহত হয়েছেন। তাজুল ইসলাম ওই কারখানাটির ওই ভবনের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (ডিপ্লোমা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি ওই ভবনের ৫তলায় ইলেকট্রিক্যাল কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে গ্যাসের গন্ধ পেয়ে শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে চারদিকে ছুটতে থাকেন। এ সময় আগুন লাগার খবরে ৫তলার শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে ভবনের ছাদে চলে যায়। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ওপরে দড়ি পাঠালে তাজুল ইসলাম একাই প্রায় ৩০ জন নারী শ্রমিককে নিচে নামিয়ে আনেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই কাজটি করেছি। আমি নিজেই এখন একটু অসুস্থ। তাই আর আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি না।’

দাহ্যপদার্থ মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম :

নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জের ভুলতা কর্ণগোপ এলাকায় সেজান সুজের কারাখানাতে শুধু জুস নয় অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীও তৈরী হতো । দীর্ঘ সময় ধরে আগুনের লেলিহান শিখার কারনে ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। কারখানাটির ভেতরে বিভিন্ন রাসায়নিকসহ দাহ্যপদার্থ মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকে । ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ লাশই পুড়ে কংকাল হয়ে গেছে।
জানা গেছে, ভবনের চতুর্থ তলায় ললিপপ, তরল চকলেট, তৃতীয় তলায় অরগানিক পানীয় (জুস, লাচ্ছি), দোতলায় টোস্ট বিস্কুট, বিভিন্ন ধরনের পানীয় এবং নিচতলায় বাক্স ও পলিথিন তৈরির কারখানা ছিল। পঞ্চমতলার একপাশে সেমাই, সেমাই ভাজার তেল, পলিথিন; অপর পাশে কারখানার গুদাম ছিল। কারখানার ষষ্ঠতলায় ছিল কার্টনের গুদাম। টানা ২১ ঘণ্টা ধরে আগুনে পুড়ছে পুরো কারখানা।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জানান , কারখানাটির ভেতরে বিভিন্ন রাসায়নিকসহ দাহ্যপদার্থ মজুত থাকায়

মায়ের হাড্ডিগুলা খুইজ্জা দেন স্যার :

বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় হাসেম ফুড লিমিটেডের পুড়ে যাওয়া কারখানার সামনে ফিরোজা বেগমকে (৩৮) প্রথম দেখা যায়। কারখানার প্রধান ফটকের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি। চোখেমুখে পানির ঝাঁপটা দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন হালিমার স্বজনেরা। শুক্রবার দুপুরে কারখানার সামনে থাকা নিখোঁজ স্বজনদের ভিড়েও ফিরোজাকে আলাদাভাবে চোখে পড়েছে। সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় ফিরোজা পথ আগলে দাঁড়িয়েছিলেন ঘটনাস্থলে আসা ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তার। কখনো হাত কখনো–বা পা জড়িয়ে ধরেছেন। বারবার চিৎকার করে বলেছেন, ‘ও স্যার, আমার ’ হালিমা তাঁর নিখোঁজ মেয়েকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। যেকোনো উপায়ে অন্তত সন্তানের লাশটুকু ফিরে পাওয়ার আকুতি জানাচ্ছিলেন তিনি।

ফিরোজার জন্ম কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায়। বাবা বাচ্চু মিয়া দিনমজুর। সংসারের অভাব ঘোচাতে পাঁচ বছর আগে মাত্র ১১ বছর বয়সে হাসেম ফুডের কারখানাটিতে শ্রমিকের কাজ নেয় তাসলিমা। পাঁচ বছর পর এসে তাসলিমার বেতন দাঁড়িয়েছিল ৫ হাজার ৬০০ টাকা। ফিরোজা নিজেও এই কারখানার শ্রমিক। মেয়ের আগে থেকেই কারখানার দোতলায় টোস্টশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। গতকাল আগুন লাগার সময়েও মা–মেয়ে কারখানাটির আলাদা দুটি তলায় কাজ করছিলেন।

গতকাল দুপুরে সে কথা বলেই বিলাপ করছিলেন ফিরোজা। বিলাপের সুরে তিনি জানান, কারখানায় আগুন লাগার পর জীবন বাঁচাতে কারখানার দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়েছিলেন তিনি। তখনই কারখানার চারতলায় আটকেপড়া মেয়ে তাসলিমার কথা মনে পড়ে। ছুটে যেতে চান কারখানার চারতলায়। কিন্তু কারখানার নিচের ফটক বন্ধ পেয়ে হালিমার আর কারখানার ভেতরে যাওয়া হয় না।

তাসলিমার চাচি আমিনা বেগম অভিযোগ করেন, আগুন লাগার সময় কারখানার নিচের ফটকটি বন্ধ ছিল। এ কারণে অনেক শ্রমিকই কারখানাটি থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি।

এটা নিতান্তই একটি দুর্ঘটনা : আবুল হাশেম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার সজীব গ্রæপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সেজান জুসের কারখানায় অগ্নিকাÐের ঘটনাকে নিতান্তই একটি দুর্ঘটনা বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবুল হাশেম। এ ঘটনার কোনো দায় তাঁর প্রতিষ্ঠান নেবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে আবুল হাশেম বলেন, ‘আগুনের ঘটনার দায় নেব না। এটা নিতান্তই একটি দুর্ঘটনা।’ তিনি বলেন, ‘এখানে একই সারিতে ছয়টি ভবনে ছয়টি ফ্যাক্টরি আছে। যে ভবনে আগুন লেগেছে, সেখানে পাঁচ–ছয় শ শ্রমিক কাজ করত। জীবনে বড় ভুল করেছি ইন্ডাস্ট্রি করে। ইন্ডাস্ট্রি করলে শ্রমিক থাকবে। শ্রমিক থাকলে কাজ হবে। কাজ হলে আগুন লাগতেই পারে। এর দায় কি আমার? আমি তো আর গিয়ে আগুন লাগাই নাই। এই দায় আমার না।’
তবে সজীব গ্রæপের চেয়ারম্যান আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে বলছেন, ‘কোনো শ্রমিক সিগারেট খেয়ে ফেলে দিয়েছে। সেখান থেকে আগুন লাগতে পারে। যেহেতু নিচের তলায় কার্টুন রাখা ছিল এবং বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ ছিল, তাই হয়তো আগুনের এই ভয়াবহতা।’
আবুল হাশেম বলেন, ‘আমি এখনো ঘটনাস্থলে যাইনি। তবে আমার লোকজন সেখানে রয়েছে। যারা মারা গিয়েছেন, তারা তো আমারই ছেলেমেয়ে। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment