অনিয়ম করলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর শাস্তির পেতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

নারায়ণগন্জ নিউজ ২৪ ডট কম : অনিয়ম করলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর শাস্তির পেতে হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আপনি ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কার পেয়েছেন, তেমনি কোনো অপকর্ম করলেও ক্ষমা নেই, কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন ও জনপ্রশাসন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ যত বেশি সমৃদ্ধ হবে, আপনার স্বজনরা তত বেশি উন্নত জীবন কাটাবে। সেই চিন্তা নিয়েই দেশের জন্য কাজ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাদারিত্ব, সততা, আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠা বজায় রেখে উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ২০২০ ও ২০২১ সালের জনপ্রশাসন পদক বিতরণ করেন। নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ৩৫ জন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান এই পদক পেয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পদক বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ও জনপ্রশাসন সচিব কে এম আলী আজম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে তাদের সেবা করুন। যাদের অর্থে আমরা চলছি তাদের যেন কষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা সরকারি কর্মচারী আছেন তাদের চিন্তা করতে হবে যে, বিজ্ঞান প্রযুক্তির যুগে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসবে, নতুন নতুন উদ্ভাবন হবে। আর এসবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই আমরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারব। বর্তমানে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষ ডিজিটাল সেবা পাচ্ছে।’ এই ডিজিটাল বাংলাদেশের সেবা ও সুবিধাগুলো তারা ব্যাপকভাবে পাচ্ছে বলে অবহিত করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা দিয়ে সবকিছুই কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতিতে করে যাচ্ছি। যেটা আমাদের যথেষ্ট সময় বাঁচাচ্ছে। সবরকম সুযোগ করে দিচ্ছে। কারণ সরকার গঠন করা বা ক্ষমতায় আসা এটা শুধু ভোগ-বিলাসের বিষয় নয়। আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েছি দেখে মহাকিছু হয়ে গেছি তা নয়। এটা একটা বিরাট দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ‘সেই সঙ্গে আমার যারা সহকর্মী- বিশেষ করে সরকারি কর্মচারী, আপনাদেরও জনগণের প্রতি দায়িত্ব আছে। কারণ বাংলাদেশের জনগণই তো আপনাদের ভরণ-পোষণ ও খাবারের জোগান দেয়। আমাদের সকলের জন্য জনগণের অবদান আছে। এখন তাদের জন্য আমরা কতটুকু কী করতে পারলাম, কতটুকু দিতে পারলাম- সেটাই হচ্ছে সব থেকে বড় বিষয়। তাদের সার্বিক উন্নয়ন করাই আমাদের দায়িত্ব।

অল্প সময়ের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। আমরা যে পরিকল্পনাগুলো নিয়েছি সেগুলো বাস্তবায়ন করেছেন। যার যা দায়িত্ব তা গ্রহণ করে প্রতিপালন করেছেন। মানুষ তার শুভ ফলটা পেয়েছে বলেই দেশের উন্নতি হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমি মনে করি, জনপ্রশাসনের যারা আছেন, জনগণের সেবা করা তাদের দায়িত্ব। জাতির পিতাও আমাদের সেই নির্দেশেই দিয়েছেন।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৫ সালের ১০ জানুয়ারি পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া বক্তৃতার কয়েকটি লাইন তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের আমি অনুরোধ করি, যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে তাদের সেবা করুন। যাদের অর্থে আমরা চলছি তাদের যেন কষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। যারা অন্যায় করবে, অবশ্যই তাদের কঠোর হস্তে দমন করবেন। কিন্তু সাবধান, কোনো নিরাপরাধ লোকের উপরে যেন অত্যাচার না হয়। তাতে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। আপনার সেদিকে খেয়াল রাখবেন। আপনারা যদি অত্যাচার করেন আমাকেও আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

কারণ আমি আপনাদের নেতা। আমারও সেখানে দায়িত্ব রয়েছে। আপনাদের প্রত্যেকটি কাজের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আমার ঘাড়ে চাপে, আমার সহকর্মীদের ঘাড়ে চাপে।’
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের অনেকে চমৎকার উদ্ভাবনী কাজ করেছেন। যা দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগছে। আজ আপনি যেটা করবেন, আপনার ভবিষ্যৎ বংশধর তার সুফল ভোগ করবে। এভাবেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের উপর বারবার আঘাত এসেছে। অনেক ঝড়-ঝাপটা গেছে। আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু একে একে আমরা সেইসব মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছি।

সর্বশেষ করোনা মহামারির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই করোনার হাত থেকেও ইনশাল্লাহ আমরা মুক্তি পাব। ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন কেনা আমরা শুরু করেছি। ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। ব্যাপক পরিমাণে ভ্যাকসিন দিয়ে দিতে হবে। যাতে অন্তত আমাদের দেশের সবাই সুরক্ষিত থাকে। ইতোমধ্যে আমি সে নির্দেশনাও দিয়ে দিয়েছি।

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে আপনারা কাজ করেন বেশি। আপনাদের জানার সুযোগ বেশি থাকে। তাই কীভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা যায়, সেটা অনুধাবন করে পরিকল্পনা নিতে হবে।’ মানুষের সেবা করে তাদের উন্নত জীবনের সুযোগ তৈরি করে দিতে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আরেকটি উক্তির কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জনগণের সঙ্গে মিশে যেতে হবে। তারা জনগণের খাদেম, সেবক, ভাই। তারা জনগণের বাপ, জনগণের ভাই, জনগণের সন্তান। তাদের এই মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু আপনাদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিই না। সরকারি কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ফ্ল্যাট নির্মাণসহ প্লট ক্রয়ে ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়েছি। আপনাদের বেতন এক লাফে ১২৩ শতাংশের উপরে বৃদ্ধি করেছি।

তিনি আরও বলেন, ‘ভালো কাজে পুরস্কার আছে; আবার কেউ যদি খারাপ কোনো কিছু করে তাদের কিন্তু ছাড়বেন না। তাদেরও কঠোর শাস্তি পেতে হবে। এই শৃঙ্খলা ও নিয়মটা থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট যেন ভালোভাবে বাস্তবায়ন হয় এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যেন মান ঠিক রেখে বাস্তবায়ন করা যায় সেটা আমি চাই। আর যত্রতত্র যেখানে-সেখানে কিছু নির্মাণ যেন না হয়। যেটা আসলেই দেশের মানুষের জন্য প্রয়োজন, উন্নয়ন পরিকল্পনা যেন সেভাবে হয়- এই বিষয়টা আপনারা খেয়াল রাখবেন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তি নিয়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment