এবার রূপগঞ্জ বিএনপি ধ্বংসের পাঁয়তারা

নারায়ণগন্জ নিউজ ২৪ ডট কম : রূপগঞ্জ বিএনপির কমিটিতে আওয়ামী লীগ ঘরানার ব্যক্তিকে সদস্য সচিব বানাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি পক্ষ।

অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের টাকার মিশন নিয়ে বাশির উদ্দিন বাচ্চুকে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বনাতে মাঠে নেমেছেন কাজী মনিরুজ্জামান। মামুন মাহমুদও তাকে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

সূত্র বলছে, ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে বাশির উদ্দিন বাচ্চুকে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বানানোর পাঁয়তারা বিষয়টি উল্লেখ করে উপজেলা বিএনপির সহযোগি কমপক্ষে দশটি সংগঠন কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট করেছে। তাকে কমিটির সদস্য সচিব বানানো হলে তারা বিদ্রোহ করবেন বলেও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে মামুন মাহমুদের কমিটি বাণিজ্যের ব্যাপারে বিভিন্ন স্থানে ক্ষোভ, বিক্ষোভ চলছে। সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা মামুন মাহমুদের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ করেছে। সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি নিয়েও তিনি ব্যাপক অনিয়ম করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, মামুন মাহমুদ নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে দলের বারটা বাজাচ্ছেন। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ২০২৩ সালের নির্বাচনে রূপগঞ্জসহ জেলার অন্যান্য স্থানে দলটির ভরাডুবি ছাড়া গতান্তর নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।

সূত্র বলছে, আগামী ২০২৩ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে বিএনপি একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছিল। এরই অংশ হিসেবে দেশব্যাপী মেয়াদোত্তীর্ণ সব সাংগঠনিক কমিটি পুনর্গঠন করে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা ছিল দলটির। কিন্তু কমিটি গঠনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা অযোগ্যদের কমিটিতে স্থান দেয়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব।

সূত্র মতে, বিএনপির কমিটি গঠনে টাকার বাণিজ্য থাকায় অযোগ্য নেতাকর্মীও চলে আসছে শীর্ষ পদে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান বিগত দিনে রূপগঞ্জ থানা, তারাব ও কাঞ্চন পৌর কমিটিসহ ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডে পকেট কমিটি গঠন করে। এ নিয়ে জেলা ও উপজেলার সর্বত্রই সমালোচনায় পড়েন তিনি। ফলে জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিশাল একটি অংশ ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। আবার অনেকে দল ত্যাগ করেন। শেষ পর্যন্ত কাজী মনির বিএনপি ছেড়ে অবসরে চলে গেলে তার সঙ্গীয় নেতারা নিস্ক্রিয় হয়ে যান।

এখন আবারো একটি পক্ষ ওইসব নিস্ক্রিয় নেতাকর্মীদের দলের র্শীষ পদে বসানোর ষড়যন্ত্র করছে। তেমনি একজন বাশির উদ্দিন বাচ্চু। তিনি আওয়ামী পরিবারের সদস্য হয়েও রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হতে টাকার বিনিময়ে জোর তদবির চালাচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জানও বাশির উদ্দিন বাচ্চুকে রূপগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য সচিব করতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার পক্ষে কাজ করছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বিতর্কিত সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ। বাশির উদ্দিন বাচ্চুর আপন দুই ভাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।

তিনি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরাসরি নৌকা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। দিয়েছেন নৌকা প্রতীকে ভোটও। কখনো বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে দেখা যায়নি তাকে। তিনি কাজী মনিরের কারখানায় আয়োজিত গোপন সভায় শুধু ফটোসেশনে অংশ নিয়েছেন।

রূপগঞ্জ বিএনপির প্রবীন ও ত্যাগী নেতারা জানান, রূপগঞ্জ এখন রাজনৈতিক কেন্দ্রস্থল হিসেবে ভুলতা-গাউছিয়া এলাকাকে ধরা হয়। এখান থেকে থানার সকল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তাছাড়া রূপগঞ্জ থানা বিএনপির অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনকে আহ্বায়ক ও বাশির উদ্দিন বাচ্চুকে সদস্য সচিব করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তাদের দুইজনের বাড়ি শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে ও রূপগঞ্জ থানা এলাকার শেষপ্রান্তে।

তারা কখনোই রূপগঞ্জের কেন্দ্রস্থল ভুলতা এলাকায় কোনো কর্মসূচি পালন করার ক্ষমতা রাখে না। বিগত দিনেও মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থাকায় ভুলতা এলাকায় কখনো বিএনপির কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। বিএনপির থানা কমিটির আহ্বায়ক কিংবা সদস্য সচিব ভুলতা এলাকায় রাখা না হলে বিএনপি কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। ধীরে ধীরে রূপগঞ্জ বিএনপি ধংস হয়ে যাবে। আস্থা হারাবে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও।

বিএনপি ত্যাগী নেতারা আরও জানান, কাজী মনিরুজ্জামান রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল কমিটিতে হস্তক্ষেপ করায় আজ কমিটি স্থগিত। ছাত্রদল নেতারা এখনও তার প্রতি নাখোশ। যুবদলের পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওয়ার্ডের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা যার নেই, তিনিও আজ জেলা যুুবদলের বিভিন্ন পদবী বহন করছেন। ফলে যুবদলের ত্যাগী নেতারা দল ত্যাগ করেছেন। কেউ কেউ নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। একই অবস্থা স্বেচ্ছাসবকদলেও। শুধু কাজী মনিরের অপরাজনীতির কারণে স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটি গঠন হচ্ছে না।

তিনি যুবদলের মতো অযোগ্য নেতাকর্মী দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের রূপগঞ্জ থানা কমিটি গঠনের মিশনে নেমেছেন। তার হস্তক্ষেপের কারণে রূপগঞ্জ বিএনপির অবস্থা নাজুক। কেউ কেউ বলেন, রূপগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন পঙ্গু হয়ে গেছে। বাশির উদ্দিন বাচ্চুর মতো অযোগ্য, নিস্ক্রিয় ও আওয়ামী লীগ ঘরোয়ানা নেতাকে রূপগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য সচিব করতে কাজী মনির, মামুন মাহমুদ মিশনে নেমেছেন।

বাশির উদ্দিন বাচ্চু বলেন, আমার দুই ভাই পূর্ব থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে। আমিতো কখনো আওয়ামী লীগ করিনি। এ সরকারের আমলে কোথাও নেতাকর্মীরা মাঠে নামেনি। আমার যোগ্যতাই আমাকে পদ দেবে।

মামুন মাহমুদ বলেন, বিগত দিনে বিএনপির ছোট খাটো সকল অনুষ্ঠানে বাশির উদ্দিন বাচ্চুকে দেখা গেছে। তাছাড়া টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ সঠিক নয়।

অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, বিএনপির কোনো কমিটিতে অযোগ্যদের স্থান দেয়া হবে না। এজন্যই কমিটি গঠন কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে তদবিরের কারণে সঠিকভাবে কমিটি গঠন করা যাচ্ছে না।

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির টিম লিডার অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও, আড়াইহাজার বিএনপির কমিটি গঠনের বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে সব তথ্য প্রেরণ করা হয়েছে।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment