আইনের শাসন থাকলে বহু আগেই জামিন পেতেন : বিএনপি

আইনের শাসন থাকলে বহু আগেই জামিন পেতেন : বিএনপি

নারায়ণগন্জ নিউজ ২৪ ডট কম ডেস্কঃ খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, তিনি (খালেদা) দুটি শর্তে সম্পূর্ণ মুক্ত। উনি এখন সরকারের কাস্টডিতে নেই। মুক্ত বলে তিনি মুক্তভাবে বাসায় থাকতে পারছেন। মুক্ত আছেন বলেই তিনি মুক্তভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন। তবে খালেদা জিয়া সরকারের হেফাজতেই আছে দাবি করে বিএনপি’র সংসদ সদস্যরা বলেছেন, দেশে আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলে তিনি বহু আগেই জামিন পেতেন।

রবিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে আনিসুল হক বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারের কাস্টডিতে রয়েছেন বলে বিএনপি যে দাবি করেছে, তা সঠিক নয়। এর আগে আইন পাসের প্রক্রিয়ায় বিএনপির সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ, মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন খালেদা জিয়ার বাসাকে সাব-জেল বানিয়ে সেখানে তাকে রাখা হয়েছে। তিনি ন্যায়বিচার পাননি, চিকিৎসাও পাচ্ছেন না। সুচিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর দাবি জানান তারা।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, উনারা কেবল বলেন, সাব-জেল বানিয়ে রাখা হয়েছে। উনার বাসাটাকে কোনো জেলই বানানো হয়নি। উনাদের (বিএনপির) তথ্যে এত বিভ্রাট কেন তা বুঝতে পারি না। এতই যদি ভালোবাসা থাকে তাহলে তো তথ্যটি জেনে এখানে কথা বলতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তাকে (খালেদা জিয়াকে) ৬ মাস করে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত। সেখানে দুটো শর্ত যুক্ত ছিল সেটা এখনো আছে। মুক্ত বলে তিনি মুক্তভাবে বাসায় থাকতে পারছেন। মুক্ত আছেন বলেই তিনি মুক্তভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ৪০১ ধারায় যাকে মুক্তি দেওয়া হবে তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না, এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু কথা আছে শর্তযুক্ত অথবা শর্তমুক্ত। আমরা সেখানে বলেছি উনি বিদেশ যেতে পারবেন না, বাংলাদেশে থেকে চিকিৎসা নেবেন। উনি অবশ্যই মুক্ত। তিনি আরো বলেন, আমি বলেছি একটা বিষয় সিদ্ধান্ত হলে, সেখানে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এটা চাইলে উনাকে অরিজিনাল প্রিজনে যেতে হবে। তারপর নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। ৪০১ ধারার বিষয়ে বিএনপি থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে তার সঙ্গে দ্বিমত আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে রুমিন ফারহানা বলেন, দুদকের মামলায় ১০ বছরের সাজা, এটা পেন্ডিং আপিলের সাজা। আমরা জুনিয়র থেকেই এটা করে আসছি। এটা কোনো নতুন উদাহরণ নয়। আইনের চোখে সবাই সমান। কিন্তু, আইনের চোখে যদি সবাই সমান হতো, দেশের আর ১৭ কোটি নাগরিক যেমন এ ধরনের মামলায় জামিন পায়, দেশনেত্রীও পেতেন। কিন্তু এ সরকারের আমলে আইনের চোখে সবাই সমান, এ কথাটি বাস্তবে নেই। আজ খালেদা জিয়ার শারীরিক যে অবস্থা, এর পুরো দায়িত্ব এ সরকারকেই নিতে হবে। কারণ, গত তিন বছর খালেদা জিয়া এ সরকারের হেফাজতে আছেন।

আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, নতুন করে আবেদন করতে হবে, জেলে গিয়ে আবেদন করতে হবে। তারপরে তিনি বিদেশে যেতে পারবেন। কিন্তু ৪০১ ধারায় কোথাও বলা নেই, সাজাপ্রাপ্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কারাগারে গিয়ে আবেদন করতে হবে। বরং ৪০১ ধারা সরকারকে অবারিত ক্ষমতা দেয়, যেকোনো শর্তে, পুরনো শর্তে, নতুন শর্তে সংযুক্ত করে সাজাপ্রাপ্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত তার সাজার মেয়াদ স্থগিত করতে বা পুরোপুরি মুক্ত করতে। তিনি আরো বলেন, বারবারই আইনমন্ত্রী বলছেন, একটা অ্যাপ্লিকেশন, যেটা ডিসপোজ অফ হয়ে গেছে, সেটার ওপরে আর আলোচনা চলবে না। এটা আমিও মানি। এটা নিয়ে আমাদের কোনো কথা নাই। কিন্তু আরো দুটো অ্যাপ্লিকেশন তো দেওয়া আছে। উনার পরিবারের তরফ থেকে আবেদন করা হয়েছে। দলের তরফ থেকেও আবেদন করা হয়েছে। এমনকি আমাদের সমকর্মী যে আইনজীবীরা রয়েছেন, তাঁরাও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বসেছেন। সেখানেও আইনমন্ত্রী আরেক রকমভাবে বলেছেন, ঠিক আছে বিবেচনা করে দেখতে পারি কি না, আমরা দেখব। সুতরাং বিষয়টি যে একদম পাস্ট অ্যান্ড ক্লোজড ট্রানজেকশন, বিষয়টি যে একদম সমাধা হয়ে গেছে তেমনটি নয়। তবে আমি আশা করব, সরকারের বোধোদয় হবে। সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে যাওয়ার দ্রুত অনুমতি দেবে।

 

সুত্র,কালের কণ্ঠ

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment