তৈমূর – বহিস্কার নাকি কৌশল

নারায়নগঞ্জ নিউজ ২৪ ডট কম ডেস্কঃ বিএনপির চেয়ারপার্স‌নের উপ‌দেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য পদ থে‌কে অব্যাহ‌তি দেয়া হ‌য়ে‌ছে নাসিক নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার‌কে।

কেউ কেউ এ পদক্ষেপকে বহিস্কার হিসাবে দেখলেও অপর কিছু সূত্র জানান, এটাও নির্বাচনী কৌশল।

সোমবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে দলের দলের এই সিদ্ধান্তের কথা কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এড. রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি নারায়নগঞ্জ শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার বিভিন্ন গন মাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়ে দল থেকে এখনও আমাকে কিছু জানায়নি। যদি এটা সত্য হয়ে থাকে, আলহামদুলিল্লাহ। আমি মনে করি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান একটা সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আমাকে জনগনের জন্য মুক্ত করে দিয়েছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, কোন বহিষ্কার আদেশ হয়নি। এ ধরনের তথ্য ভুল, এটি নিতান্তই গুজব।

এর আগে তা‌কে জেলা বিএন‌পির আহ্বায়ক পদ থে‌কে স‌রি‌য়ে যুগ্ম আহ্বায়ক ম‌নিরুরুল ইসলাম র‌বি‌কে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দা‌য়িত্ব দেয়া হ‌য়ে‌ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপির একধিক সূত্র।

সূত্র জানায়, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং যুবদল নেতা ম‌মিনউল্লাহ ডে‌বিডের মৃত্যু প্রস‌ঙ্গে বিত‌র্কিত বক্তব্য রাখায় তা‌কে এই অব্যাহ‌তি দেয়া হয়।

এদিকে জানা যায়, বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ না নিলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার।

তিনি শুরুতে জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও দল তার সাথে আছে। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয় বিএনপি। এরপর বিএনপির হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ আছে, তৈমুর আলমের পক্ষে কোনো বিএনপি নেতা-কর্মী যেন কাজ না করে। তাকে বহিষ্কার করাও হতে পারে এমন আলোচনা তখন থেকেই চলছিল।

অপরদিকে তৈমুর আলম সমর্থিত সূত্রগুলো জানায়, নির্বাচনকালীন সময়ে তৈমূরকে দুটি পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়টি বিএনপি একটি কৌশল মাত্র। নির্বাচনের পর তৈমূম তার স্ব স্ব পদে ফিরে যাবেন। তৈমূর আলম যাতে ফ্রি এন্ড ফেয়ার ভাবে দলীয় ও সাংগঠনিক চাপ মুক্ত থেকে নির্বাচন করতে পারে।

তাছাড়া যেহেতু বিএনপি বলে আসছে এই সরকারের আমলে তারা আর কোন নির্বাচনে অংশ নিবে না। সেখানে বিএনপির ব্যানারে তৈমূর নির্বাচনী মাঠে থাকলে রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নের সম্মুখিন হবে বিএনপি। তাই তৈমূরকে দুটি পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে আরেক দফা বোকা বানালো প্রতিপক্ষকে।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment