দুর্নীতি-অনিয়মে ডুবছে পাগলা স্কুল, জনমনে তীব্র ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মে জৌলুশ- ঐতিহ্য হারিয়ে ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছে ফতুল্লার পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়। ম্যানেজিং কমিটির কিছু অযোগ্য, দুর্নীতিবাজ সদস্য ও কয়েকজন অসাধু শিক্ষকের সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে স্কুলটির এখন বেহাল দশা৷ সর্বশেষ, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের টিকা দিতে গিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এই স্কুলের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে৷ এমন গুরুতর অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবক ও স্থানীয় জনসাধারণ৷

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়কে ঘিরে একটি সিন্ডিকেট তৎপর। স্থাপনা নির্মাণে দুর্নীতি, তহবিল আত্মসাৎ, ভর্তি বাণিজ্য, বাজে পরিবেশ, শিক্ষার নিম্নগামী মান- সর্বোপরি স্কুল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার পেছনে ওই সিন্ডিকেটকেই দায়ী করা হচ্ছে সর্বস্তরের জনসাধারণের পক্ষ থেকে। এমনকি বিদ্যালয়ের তহবিল খরচ করে শিক্ষার্থী- অভিভাবকদের ছাড়াই ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকেরা নিকট অতীতে পিকনিকে যাওয়ার মতো লজ্জাজনক কাণ্ড ঘটান৷ এছাড়াও একের পর এক দুর্নীতি- অনিয়মে অভিযুক্ত তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটিকে ২০১৫ সালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসে শাসিয়ে যান৷ সকল দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে তিনি ওই সময়ের সভাপতি মামুন হাবিবকে সতর্ক করে দেন প্রকাশ্যেই৷ ওই ভিডিও ভাইরাল হলে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। এসময় ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্যেরাও ইউএনও এর তোপের মুখে পড়েন৷

কিন্তু এরপরও রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি পায়নি ওই অঞ্চলের অন্যতম বড় স্কুলটি। অনিয়ম-দুর্নীতি ঠেকাতে সাংসদ একেএম শামীম ওসমান সভাপতির দায়িত্ব নিলেও ম্যানেজিং কমিটির অসাধু সদস্যেরা অপকর্ম চালিয়ে যেতে থাকেন৷ নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় যেন তাদের প্রতিদিনের রুটিন৷

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘দালাল চক্র স্কুলটিকে শেষ করে ফেলেছে। লুটেপুটে খেয়ে এরা প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এবার তারা বিনামূল্যের টিকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের মতো ঘৃণ্য অপকর্ম করেছেন৷ আর এর মূলে রয়েছেন বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সদস্য ও জমি ব্যবসায়ী রেজাউল করিম৷ প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দনাথের উষ্কানিতে রেজাউল জনপ্রতি ৫০টাকা করে নিচ্ছেন। এই স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান৷ অথচ রেজাউল ও ব্রজেন্দনাথের লোভের বলি হচ্ছে তারা।’

একাধিক সূত্র জানায়, রেজাউল করিম একসময় ব্যাপক অর্থকষ্টে জীবনযাপন করেছেন। ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি৷ একসময় টিউশনি করে কোনোরকমে খেয়ে- পড়ে বেঁচে থাকা রেজাউল একসময় জমির দালালি শুরু করেন৷ জনশ্রুতি রয়েছে, বহু নিরীহ মানুষের জমি আত্মসাৎ করে বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন তিনি৷ স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাটুকারিতা করে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে মরিয়া রেজাউল লাখ লাখ টাকা খরচ করে স্কুল কমিটির সদস্য হন৷ কোন স্বার্থ আদায়ে একটি স্কুল কমিটির নির্বাচনে তিনি বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেন, তা নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে।

জানা যায়, দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে স্কুলটিতে নির্বাচন হচ্ছে না৷ ২০২০ সালের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে সেটি স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে এডহক কমিটি গঠন করা হয়৷ আর এর দায়িত্ব পেয়ে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছেন রেজাউল।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে স্কুলটির এযাবতকালের সকল অনিয়ম-দুর্নীতি অনুসন্ধান করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক৷ এ ব্যাপারে তারা সাংসদ শামীম ওসমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দ্রুত পদক্ষেপের দাবি করছেন।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment