সেনাসদস্য হত্যাকাণ্ডে, টিআই প্যারেডে শনাক্ত বিয়ার সুমনসহ ২ খুনী ছিনতাইকারী

নারায়নগঞ্জ নিউজ ২৪ ডট কমঃ  নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গত ১৫ জানুয়ারি সেনাসদস্য শাহীন আলমের (২২) মানিব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় তাকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।

নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নামে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম। সেই ক্লু-লেস মামলায় ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৭২ ঘন্টার মধ্যেই পেশাদার ছিনতাইকারী সুমন ওরফে বিয়ার সুমন, জীবন ও জুম্মন মিয়াকে গ্রেফতার করে।

পরে ২২ জানুয়ারি দুপুরে ছিনতাইকারী জীবন, সুমন ও জুম্মন মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন বলে ওসি জানান।

গ্রেফতার হওয়া ছিনতাইকারী জীবন (২৩) নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সিআই খোলা এলাকার মো. আলী হোসেনের ছেলে ও সুমন ওরফে বিয়ার সুমন (২৫) সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার শওকত আলীর ছেলে এবং মো. জুম্মন মিয়া (২২) একই এলাকার আসলাম মিয়ার ছেলে।

তবে সেনাসদস্য শাহীন আলমের মানিব্যাগে মাত্র ১১৩ টাকা ছিল। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের কাছে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য দেন ছিনতাইকারী সুমন ওরফে বিয়ার সুমন।

এ সময় সেনাসদস্য শাহীন আলমের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে ছিনতাইকারী সুমনও আঘাত পান। ২৭ জানুয়ারি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে গ্রেফতার হওয়া ছিনতাইকারীদের এক টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন প্যারেড (টিআইপি) অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অসংখ্য আসামির মধ্য থেকে ছিনতাইকারী সুমন ওরফে বিয়ার সুমন ও জীবনকে শনাক্ত করেন ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ইজিবাইকচালক হাবীবুল্লাহ।

হাবীবুল্লাহ ২২ জানুয়ারি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালেত দেওয়া জবানবন্দিতে বলেন, গত ১৫ জানুয়ারি রাত ৩টার দিকে হাবীবুল্লাহ তার ইজিবাইক সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকায় গ্যারেজে রাখার জন্য যাচ্ছিলেন।

এ সময় সুমন ওরফে বিয়ার সুমন ও জীবন চাকুর (সুইচ গিয়ার) ভয় দেখিয়ে তাকে জিম্মি করে তার ইজিবাইকটি ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের বেঙ্গল প্যাসিফিক কারখানার পাশে নিয়ে যায়।

এ সময় রিকশা আরোহী শাহীন আলমকে (সেনাসদস্য) ছুরির ভয় দেখিয়ে মানিব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নিতে চাইলে তিনি বাধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা শাহীন আলমের বাম হাতে, তলপেটে এবং ডান উরুতে ছুরিকাঘাত করলে সেনাসদস্য শাহীন আলম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এ সময় সেনাসদস্য শাহীন আলমের সঙ্গে ছিনতাইকারীদের ধস্তাধস্তিতে সুমন ওরফে বিয়ার সুমন তার ডান হাতে আঘাত পান। পরে ছিনতাইকারী সুমন ওরফে বিয়ার সুমন ও জীবন ওই ইজিবাইকযোগে হীরাঝিল এলাকার আশীর্বাদ মেডিকেল হলে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মো. মশিউর রহমান (পিপিএম বার) বলেন, পটুয়াখালীর লেবুখালীস্থ শেখ হাসিনা ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত সৈনিক (কুক) শাহীন আলম (২২) সাত দিনের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে যাচ্ছিলেন।

পথিমধ্যে তার বন্ধু ফারহাবির বাসায় (সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন হিরাঝিল এলাকা) রাতযাপন করতে যাচ্ছিল। রাত সাড়ে ৩টার সময় মৌচাক বেঙ্গল প্যাসিফিক কারখানার পাশে পৌঁছালে অজ্ঞাত ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে সৈনিক শাহীন আলমকে পুলিশ উদ্ধার করে ঢাকা সিএমএইচএ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment