ফতুল্লায় পথ বন্ধ করে দেয়াল নির্মানের অভিযোগ, শিক্ষিকা তাসলিমার বিরুদ্ধে

নারায়ণগন্জ নিউজ ২৪ ডট কমঃ পথ বন্ধ করে দেয়াল নির্মানের অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লার তক্কার মাঠ এলাকার এক স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। তাসলিমা নামের এক প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকার দেয়াল নির্মান করায় মই বেয়ে চার পরিবারের যাতায়াত করতে হচ্ছে।

অবরুদ্ধ পরিবারগুলো কেউ অন্যের বাড়ির উচু দেয়ালে মই রেখে আবার কেউ অন্যের বাড়ির দুতলা থেকে দুতলা বাড়ির ছাদ দিয়ে যাতায়াত করছে।  ফতুল্লার শিহাচর তক্কারমাঠ এলাকায় এ ভাবেই কয়েক মাস ধরে চলছে চারটি পরিবারের দূর্ভোগ।

জানাযায়, শিহাচর তক্কারমাঠ এলাকায় প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা তাসলিমার বাড়ির পাশাপাশি লিপি আক্তার, নূরুল ইসলাম, পারভেজ ও বিল্লাল নামে চার প্রতিবেশির বাড়ি। তারা বিভিন্ন সময় এখানে জমি ক্রয়ের পর বাড়ি করে বসবাস করছেন।

প্রত্যেকের বাড়ির দলিলে রাস্তা উল্লেখ থাকলেও কয়েক বছর ধরে সেই রাস্তা নিয়ে চার প্রতিবেশির সঙ্গে চলছে শিক্ষিকা তাসলিমার বিরোধ। তাসলিমার দাবী রাস্তার জমিটি তার। যাদের কাছ থেকে জমি কিনেছে তাদের কাছ থেকে চার প্রতিবেশি রাস্তার জমি নিবেন। তার কাছ থেকে এক ইঞ্চিও রাস্তার জন্য জমি দেয়া হবেনা।

প্রতিবেশি লিপি আক্তার বলেন, একটি রাস্তা দিয়ে ৪টি পরিবার প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে যাতায়াত করি। এ রাস্তা দেখেই জমি ক্রয় করেছি। আর এ রাস্তা দিয়েই বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ নিয়েছি। এ রাস্তা দিয়েই বাড়ি নির্মানের সামগ্রী নিয়ে দুতলা বাড়ি করেছি। কোন সময় কেউ বাধা দেয়নি।

হঠাৎ তাসলিমা এসে তার জমি দাবি করে সড়কে দেয়াল নির্মান করে গেইট লাগিয়ে তাতে তালাবদ্ধ করে রাখে। কাউকে যেতে দেয়না। কেউ গেইটের সামনে গেলেই মারধর করে রক্তাক্ত করেন আবার মিথ্যা মামলাও করে দেন। কয়েক মাস ধরে এ সমস্যার কারনে পিছনের বাড়ির দুতলা দিয়ে নিচে নেমে হাট বাজারে যেতে হয়। এভাবে কয়দিন দূর্ভোগ পোহাবো।

অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, তাসলিমা দলবল নিয়ে আমার বাড়ির গেইটের সামনে দেয়াল নির্মান করেছে। এখন বাধ্য হয়ে পাশের বাড়ির ৫ফুট দেয়ালের দুই পাশে মই রেখে তার উপড় দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। শিশুরাও এতো উচু মই বেয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করে। তাসলিমা স্থানীয় বিচার শালিশও মানেনা।

কথায় কথায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। প্রতিবাদ করতে গিয়ে একবার তাসলিমার বড় দা এর কোপ খেয়ে দীর্ঘ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছি। এঘটনা মামলা করেছি। সে জামিনে এসে আবারো উশৃঙ্খল আচরণ শুরু করেছে।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু একাধীক বার ডেকেও তাসলিমার সঙ্গে আমাদের আপোষ মিমাংসা করাতে পারেনি।

এতে চেয়ারম্যান আমাদের পুলিশ সুপারের কাছে সাহায্য চাইতে বলেন এবং পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন কপিতে লিখে দেন তাসলিমার অত্যাচারে প্রতিবেশিরা অনেক সমস্যায় আছে। আপনার দৃস্টি আকর্ষন করছি।

এরপর এঘটনায় একাধীক পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। আদালত থেকে স্থিতিশীল জারিও রয়েছে। তারপরও তাসলিমা আদালতে আদেশ অমান্য করে রাস্তায় দেয়াল নির্মান করেছে।

প্রতিবেশি বিল্লাল জানান, আদালতের মাধ্যমে সকলের জমি মাপা হয়েছে। এরপর দলিল মোতাবেক রাস্তার জমিও ঠিক রয়েছে। তারপরও তাসলিমার দাবী রাস্তার ৬ ফুট জমি তার। সে জনপ্রতিনিধি ও আইন কিছুই মানেনা।

তাসলিমা বলেন, ওই চারজন অন্যজনের কাছ থেকে জমি কিনেছে। তাদের দাগ ভিন্ন। আর আমি আরেকজনের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছি। তারা যাদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছি তাদের কাছ থেকেই রাস্তা নিবেন।

আমার কাছ থেকে কেনো তাদের রাস্তা দিবো। এটা অন্যায় করা হচ্ছে আমার উপর। তারা মামলা করেছে আমিও মামলা করেছি। যা হওয়ার আদালতে হবে।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment