প্রত্যেকটা ইউনিয়ন অবধি আমাদের ব্রডব্যান্ড চালু হয়ে গেছে, প্রধানমন্ত্রী

নারায়ণগন্জ নিউজ ২৪ ডট কমঃ বিএনপি ক্ষমতা দখলকারীদের হাতে প্রতিষ্ঠিত পার্টি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, জনগণের মধ্য থেকে তো তারা উঠে আসেনি। তাই জনগণের দিকে তাদের দৃষ্টি থাকে না। ক্ষমতার লোভটাই তাদের বড়।

বুধবার মুজিববর্ষ উপলক্ষে নির্মিত একটি ব্রডগেজ ও একটি মিটারগেজ কোচ সংবলিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর’ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সংগৃহীত ৩০টি মিটারগেজ ও ১৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন প্রান্তে যুক্ত ছিলেন।

এ সময় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন প্রান্তে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ুন কবির। গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে তার সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেলে আমাদের লোকবলের অভাব আছে। এই লোকবল বাড়াতে হবে। সেজন্য ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এটা দ্রুত কার্যকর করা উচিত।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমান রেল জাদুঘর’ করার জন্য রেল মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার যে অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বাঙালি জাতির জন্য, সেটা আমাদের দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে জানতে পারবে। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর এই বাংলাদেশের ইতিহাস থেকেই তার নামটা সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস আপন গতিতে ফিরে আসে। ইতিহাসকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না এবং সেটাই আজ প্রমাণিত সত্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন পরেই আমাদের ইদ। ইদে চলাচল আরও বৃদ্ধি পাবে। সেই কারণে আজ যে নতুন লোকমোটিভ চালু হতে যাচ্ছে তাতে আমাদের দেশের মানুষ আরও আরামে ইদের উৎসবে যোগ দিতে পারবে, নিজের আপন ঘরে ফিরতে পারবে।

দেশের মানুষের সেবা করাটাই কাজ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় বলা হয়েছিল বি আরটিসি বন্ধ করে দেওয়া হবে। কারণ ওটা লাভজনক না। সরকারি প্রতিষ্ঠান কতটুকু লাভ করল বা কতটুকু করল না, সেটার থেকে বড় কথা মানুষের সেবা কতটুকু দিতে পারল? মানুষ কতটুকু সেবা পেল? মানুষের জীবন কতটা সহজ হল, সেটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা। আর সব জায়গায় সবকিছু যে লাভবান হবে, সেটা না। তারপরও লাভবান করা যায়।

তিনি বলেন, আমরা বি আরটিসিকে যেমন লাভবান করেছি। রেলকে অলাভজনক বলে বন্ধ করতে বলা হয়েছিল এবং বন্ধ করে দিয়েছিল বিএনপি সরকার। আজকে সেটা চালু করে আমরা এটাই প্রমাণ করেছি- রেলকেও লাভবান করা যেতে পারে এবং করা যায়। রেল আজ লাভবান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে লোকবল আরও ভালোভাবে দিতে পারলে পারলে, লাইনগুলো সম্প্রসারিত হলে, নতুন নতুন যে লাইন করছি সেগুলো চালু হয়ে গেলে এটা আরও লাভবান হবে। কারণ রেলে যারা কাজ করেন তারা অত্যন্ত আন্তরিকার সঙ্গে কাজ করেন।

আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাঝে মাঝে বিপত্তি আসে। এটা হচ্ছে দুঃখজনক। যখন আমরা নতুন নতুন কোচ কিনলাম, নতুন নতুন লোকমোটিভ কিনলাম, ইঞ্জিন কিনলাম সেই সময় বিএনপি শুরু করল অগ্নিসন্ত্রাস। সব থেকে দুঃখজনক হলো- নতুন রেলগুলো যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে, সেই রেলে আগুন দেওয়া হল। বহু রেলকোচ, রেল ইঞ্জিন বিএনপি পুড়িয়ে দিয়েছিল। এটা নাকি তাদের আন্দোলন।

আমি জানি না? মানুষকে পুড়িয়ে মারা বা চলন্ত বাস গাড়ি বা রেল, লঞ্চে আগুন দেওয়া এটা কোন ধরনের আন্দোলন? এটা তো এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অবশ্য তারা তো ক্ষমতা দখলকারীদের হাতে ক্ষমতায় বসে প্রতিষ্ঠিত পার্টি। জনগণের মধ্যে থেকে তো উঠে আসেনি। কাজেই জনগণের দিকে তাদের দৃষ্টি থাকে না। ক্ষমতার লোভটাই তাদের বড়। কারণ মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাই সৃষ্টিÍ এই গুলোই তো তাদের কাজ ছিল। তারা তো দেশের মানুষের কল্যাণে কিছু করেনি।

বর্তমান সরকার দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সক্ষম হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন রুটে যাত্রী ট্রেন আবার চালু করতে পেরেছি। বাংলাদেশের অনেক অঞ্চল কিন্তু এখনো রেল লাইন দেখেনি। সেসব অঞ্চলেও রেললাইন করার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এটা আমাদের দেখতে হবে যে, আমাদের নদী-নালা, খাল-বিলের দেশ। আমাদের মাটি অনেক নরম। সেটা বিবেচনা করেই আমাদের রেললাইন করা দরকার।

ইতোমধ্যে পদ্মাসেতু নির্মাণ করে সেখানে রেললাইন সংযোগ দেওয়া এবং সেটি বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সুবিধাভোগী হবে বলে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

দেশের মানুষের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থাটাকে সুন্দর করে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে আরও সচল করা, আরও উন্নত করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা ইউনিয়ন অবধি আমাদের ব্রডব্যান্ড চালু হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি। যার ফলে এখন অনলাইনে কেনাবেচা চাকরি-বাকরি, ব্যবসা সবকিছু আমরা করতে পারছি। প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগও আজ উন্নত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এবং বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ এবং ২১০০ সাল পর্যন্ত ডেল্টা প্ল্যান তৈরি করে দিয়েছি। যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম উন্নত-সমৃদ্ধ ও সুন্দর জীবন পায়।’ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এটাই তার সরকারের লক্ষ্য বলে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে নিজ হাতে ফ্ল্যাগ উড়িয়ে বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সংগৃহীত ৩০টি মিটারগেজ ও ১৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment