নারায়ণগঞ্জে ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে তুলেছে ‘গরীবের গোস্ত ‘ সমিতি

কামাল উদ্দিন সুমন : ঈদের দিন গরীব,অসহায়, দিন মজুর ও নিন্মআয়ের মানুষের গরুর গোস্ত সরবরাহ করার জন্য চালু করা
হয়েছে গরীবের গোস্ত সমিতি। পবিত্র ঈদুল ফিতর কেন্দ্রীক চালু রয়েছে এ সমিতি।

স্থানীয় মানুষদের কাছে এটা গরু সমিতি হিসেবে পরিচিত। ঈদের দিন সন্তান সন্ততি আত্মীয় স্বজনদের মুখে গরুর গোস্ত তুলে দেয়ার জন্য এমনটির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
সূত্র জানায়,সাধারণত নিন্ম আয়ের মানুষের ঈদের সময় অন্যান্য

জিনিসপত্র কেনাকাটার পর গরুর গোস্ত কেনার সামর্থ থাকেনা অথচ ঈদের দিন খাবারে গরুর গোস্ত চায় ছেলে মেয়েরা। এমন মানুষজন স্ব-উদ্যোগে গড়ে তোলে গোস্ত সমিতি। এরা প্রতিজন মাসে ২শ টাকা করে সমিতিতে জমা রাখেন।

এক একটা সমিতির সদস্য সংখ্যা ৪থেকে ৫ শ। নারায়ণগঞ্জে অনেকে পাড়া মহল্লায় গড়ে উঠেছে এসব সমিতি।

সূত্র জানায়,বছর শেষে প্রতি রমজান মাসে শবে কদরের দিন সদস্যদের জমানো টাকায় কেনা এক বা একাধিক গরু জবাই করা হয়।

সদস্য বেশি হলে ঈদের দিন পর্যন্ত গরু জবাই চলে। জবাই করা গরুর গোস্ত সদস্যদের মাঝে সমানভাবে বন্টন করা হয়। এতে দেখে যায় প্রতি সদস্য ৫/৬ কেজি গোস্ত পেয়ে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,নারায়ণগঞ্জ বন্দরের নবীগঞ্জ, লক্ষন খোলা, চউরাবাড়ি,খানাবাড়ির মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় মহল্লায় চালু রয়েছে গরীবের গোস্ত সমিতি।

বন্দর লক্ষ্মণ খোলা এলাকার দিন মজুর আখতার হোসেন  জানান,ঈদের সময় ছেলে মেয়েদের জামা কাপড়, সেমাই চিনি কেনার পর হাতে টাকা থাকেনা অথচ ঈদের দিন সন্তানরা গরুর গোস্ত খেতে চায়।সন্তানের চাহিদার কথা চিন্তা করে সমিতিতে ২শ টাকা করে জমা রাখি। শবে কদরের দিন গরু জবাই করে আমরা গোস্ত ভাগাভাগি করে নেই।

নবীগঞ্জ এলাকার গার্মেন্টস শ্রমিক সাদিয়া আক্তার  জানান, সমিতিতে টাকা জমিয়ে বছর শেষে আমরা গরুর গোস্ত পাই।এতে করে ঈদের সময় গরুর গোস্ত কেনার বাড়তি চাপ থাকে না। আর ঈদের সময় কেনাকাটার পর আমাদের হাতে টাকাও থাকে না। ফলে গরুর গোস্ত পেয়ে ছেলে মেয়েরা খুশি হয়।

গরুর গোস্ত সমিতির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম রোববার রাতে  জানান, ঈদের সময় গরীব মানুষকে গোস্তের চাহিদা মেটাতে মুলত এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষেরা কেনা কাটার করার পর ঈদের সময় গরুর গোস্ত কেনার সামর্থ থাকেনা।

অথচ তাদের সম্তানরা ঈদের দিন গরুর গোস্ত খেতে চায়। এসব চিন্তা থেকে মুলত আমরা এমন উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি জানান,নারায়ণগঞ্জের পাড়া মহল্লায় এমন সমিতি গড়ে উঠছে। আমি যেটা পরিচালনা করছি তার সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫ শ। অন্যান্য সমিতির সদস্য সংখ্যাও একই রকম। আমাদের এউদ্যোগ পবিত্র ঈদুল ফিতর কেন্দ্রীয়।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment