নিরাপত্তা নিশ্চিতে শিকলে বাঁধা সয়াবিন তেলের বোতল

নারায়ণগন্জ নিউজ ২৪ ডট কমঃ নারায়ণগঞ্জে সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। দাম বৃদ্ধির কারনে এমনটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

এছাড়া ক্রেতার চাপ সামলাতে গিয়ে তেলের বোতল যাতে চুরি না হয় সেজন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দোকনে দোকনে সয়াবিন তেলের বোতল শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জে বৃহৎ পাইকারি বাজার দিগুবাবুর বাজারে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। পাড়া মহল্লার দোকানে খোঁজ নিয়ে একই অবস্থা দেখা যায়। প্রায় স্থানেই তেলের সংকট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই কারণে সয়াাবিন তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মাল মজুত করে রেখেছেন, যা এখন বেশি দামে বিক্রি করছেন। এছাড়া দাম বাড়ার কারণে ভোক্তারা চাহিদার তুলনায় অধিক পরিমাণে তেল মজুত করেছেন। এতেও বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।

দোকনদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ‘বাজারে তেল নাই। ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে মাল দেওয়া বন্ধ করেছে ডিলার। মধ্যখানে এক কার্টন তেল দিয়েছে। আধা ঘণ্টার মধ্যেই তা বিক্রি হয়ে গেছে।

ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকার দোকানদার আলামিন জানান, ‘তেল কোম্পানির লোকেরা মাল দেয় না। এ কারণে দোকানে কোনও তেল নেই। ঈদের সময় কিছু তেল এলেও এখন তাও মিলছে না। বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন ২২০-২৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অনেক ব্যবসায়ির সাথে আলাপ কালে বলেন, প্রতিটি ব্যবসায়ী ও ডিলারের কাছে মাল আছে। সবাই মজুত করেছেন। দাম বাড়ার আশায় তারা বাজারে সংকট তৈরি করেছেন। তাছাড়া মাল থাকলেই কয়েকগুণ বেশি মুনাফায় মাল বিক্রি করতে পারনছে। বর্তমানে অনেক তেলের ডিলার আগের মাল নতুন দামে বিক্রি করছেন। পাঁচ লিটারের বোতল ৯৯০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ তেলের বোতলের গায়ে আগের মূল্য ৭৬০ টাকা দাম লেখা রয়েছে। তবে ডিলাররা পণ্য বিক্রির কোনও রশিদ দিচ্ছেন না, যে কারণে বিষয়টি প্রমাণ করা সম্ভব না।

দিগুবাবুর বাজারের নেপাল স্টোরের মালিক শংকর চন্দ্র পোদ্দার বলেন, ‘তেলের বোতলের গায়ের মূল্য অনুযায়ী বিক্রি সম্ভব নয়। বাড়তি দাম দিয়ে আমরা কিনে এনেছি। এ কারণে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তারপরও আমরাতো বিক্রি করছি, অনেক দোকানে তেল নেই। এক লিটার বোতলের দাম ২১০ টাকা। বসুন্ধরা সয়াবিন তেলের পাঁচ লিটারের বোতলের দাম এক হাজার টাকা রাখা হচ্ছে।’
একই বাজারের বিধান স্টোরের আসাদ আলী বলেন, ‘বোতলজাত কোনও তেল পাচ্ছি না। খোলা সয়াবিন তেল আছে, প্রতি কেজি ২২০ টাকা এবং কোয়ালিটি তেল ২০০ টাকায় বিক্রি করছি।

মনির ট্রেডার্সের মালিক মনির হোসেন বলেন, ‘আমার কাছে তেল নেই। এখন পর্যন্ত বাজারে তেলের সংকট রয়েছে। আশা করছি, আগামীকাল থেকে তেল আসলে সংকট কেটে যাবে।

নিতাইগঞ্জ পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ী মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল কাদির বলেন, ‘বোতলজাত তেলের বেশ সংকট রয়েছে। বেশিরভাগ দোকানে নেই। আর খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে নতুন দামে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জেলা সভাপতি হাসমত উল্লাহ বলেন, ‘আমার মনে হয় সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুত করে রেখেছেন। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বাজার অনেকাংশে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে প্রস্তুত আছি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি আদায় করা হলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। যদি কোনও ব্যবসায়ী সয়াবিন তেল মজুত করে রাখে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করছি, নির্ধারিত দামেই তেল বিক্রি হবে।

তিনি আরও বলেন, সয়াবিন তেলের গায়ের মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কিনে কেউ প্রতারিত হলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে এ পর্যন্ত এমন কোনও অভিযোগ আমরা পাইনি।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment