বিদ্যুতের দাম ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ

নারায়ণগন্জ নিউজ ২৪ ডট কমঃ বিদ্যুতের দাম ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর কারিগরি টিম। বুধবার রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে গণশুনানিতে এ সুপারিশ করে কারিগরি টিম।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) ৬৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। এর বিপরীতে ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করে কারিগরি টিম।
পাইকারি রেটে প্রতি ইউনিট ৩ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বিউবো।

অন্যদিকে এ প্রস্তাবের বিপরীতে ২ টাকা ৯৯ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করে কারিগরি টিম।

বিপিডিবির পাইকারি দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে খরচ বেড়ে গেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ ছিল ২.১৩ টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.১৬ টাকায়।

জ্বালানি তেলের দাম ও কয়লার মূসক বাড়ার কারণে ২০২২ সালে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে ৪.২৪ টাকায়। পাইকারি দাম না বাড়লে ২০২২ সালে ৩০ হাজার ২৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান হবে বিপিডিবির।

শুনানিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, পরিচালক ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা, বিইআরসির চেয়ারম্যান ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি টিম। বুধবার (১৮ মে) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এ সুপারিশ করা হয়।

এর আগে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যুতের পাইকারি পর্যায়ে দাম ৬৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করে। সেখানে প্রতি ইউনিট ৩ টাকা ৩৯ পয়সা হয় প্রস্তাবে। তার বিপরীতে বিইআরসির সুপারিশ প্রতি ইউনিট ২ টাকা ৯৯ পয়সা। এর মধ্য দিয়ে মোট ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ দাম বাড়ানোর সুপারিশ করল বিইআরসি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড পাইকারি রেটে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করছে ৫ টাকা ১৭ পয়সা। সেক্ষেত্রে সরকার ভুর্তুকি দিচ্ছে ৩ টাকা ৩৯ পয়সা। কিন্তু ভর্তুকি ছাড়া প্রতি ইউনিট বাড়িয়ে ৮ টাকা ৫৬ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদনের ওপরে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিইআরসির চেয়ারম্যান ও কারিগরি টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুতের পাইকারি দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা প্রমাণের দায়িত্ব বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের। সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ ও ন্যায় সঙ্গতভাবে আদেশ দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল।

আজ বুধবার (১৮ই মে) রাজধানীর বিয়াম অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত গণশুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন । কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে শুনানি গ্রহণে উপস্থিত রয়েছেন সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী, বজলুর রহমান, মোহাম্মদ আবু ফারুক ও মো. কামরুজ্জামান।

কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা জানেন সারা পৃথিবীব্যাপী একটি অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। একটা পেন্ডামিক শেষ না হতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে উন্নয়নশীল থেকে উন্নতদেশ সর্বত্র প্রভাব পড়েছে। আমরাও তার বাইরে না।

চেয়ারম্যান বলেন, প্রশ্ন উঠতে পারে গ্যাসের দামের গণশুনানির ঘোষণা না দিয়ে কেনো আমরা বিদ্যুতের দামের শুনানি নিচ্ছি। আপনারা জানেন দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সরকারের পলিসি সিদ্ধান্তের বিষয় থাকে, সেটি দালিলিকভাবে প্রমাণের বিষয় থাকে। সেটার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। শেষ হলে গ্যাসের দামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে।

কমিশন তার আইনি প্রক্রিয়াগত কারণে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় প্রস্তাবের উপর গণশুনানি নেয়া হচ্ছে। পাইকারি দাম ঘোষণা হলে খুচরার ওপর প্রভাব পড়বে। তাদের কোন প্রস্তাব আমরা পাইনি।

ধরেন আমি বাড়িয়ে দিলাম তখন বিতরণ কোম্পানির সমস্যা হতে পারে এমন প্রশ্ন রাখেন বিপিডিবির প্রতি।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বর্তমান দর ইউনিট প্রতি ৫.১৭ টাকা থেকে ৬৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৮.৫৮ টাকা করার প্রস্তাব করেছে।

বিপিডিবির এই প্রস্তাব গ্যাসের বর্তমান দর বিবেচনায়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে ৯.১৪ টাকা এবং ১২৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলে ৯.২৭ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে বিইআর টেকনিক্যাল কমিটি ভর্তুকি ছাড়া ৮.১৬ টাকা করার মতামত দিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। প্রথমে বিপিডিবি তাদের প্রস্তাবের যৌক্তিকতা তুলে ধরবেন।

বিইআরসি সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুতের পাইকারি দর ইউনিট প্রতি ৫.১৭ টাকা নির্ধারণ করে। বিদ্যুতের একক পাইকারি বিক্রেতা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। নিজেরা উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি ও বেসরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনছে। ৫টি বিতরণ কোম্পানির কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করে আসছে। আর নিজেরা ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের শহরাঞ্চলে বিতরণ করে যাচ্ছে।

বিপিডিবির পাইকারি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে খরচ বেড়ে গেছে।২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যুতে গড় উৎপাদন খরচ ছিল ২.১৩ টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.১৬ টাকায়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, কয়লার মূসক বৃদ্ধির কারণে ২০২২ সালে ইউনিট প্রতি উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে ৪.২৪ টাকায়। পাইকারি দাম না বাড়লে ২০২২ সালে ৩০ হাজার ২৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান হবে বিপিডিবির।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment