প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:২৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

সোনারগাঁয়ে মান্নান-গিয়াস দ্বন্দ্ব, সুবিধাজনক অবস্থানে জামায়াতের ইকবাল


 সোনারগাঁ উপজেলা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একাংশ নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন। শিল্প-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এ আসনটি বিভিন্ন কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত আসনটিতে বৈধ প্রার্থী ১০জন। যার মধ্যে রয়েছে একাধিক প্রভাবশালী ও হেবিওয়েট প্রার্থী। যারা এর আগেও আসনটিতে জনপ্রতিনিধি নিবাচিত হয়েছেন। যার ফলে আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বীতা দেখা যাবে বলে মনে করেছেন ভোটাররা। 

নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মোট ১১জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যার মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমের মনোনয়ন বাতিলের পর ১০জনের মনোনয়ন বৈধ হয়। তারা হলেন: বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী অঞ্জন দাস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী, ইসলামী আন্দোলনের গোলাম মসীহ্, জনতার দলের আবদুল করিম মুন্সী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. শাহজাহান, আমার বাংলাদেশ পার্টির আরিফুল ইসলাম ও গণঅধিকার পরিষদের মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি। ২০১৮ সালে উপজেলা নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে সে বছরেরই শেষের দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তিনি পদত্যাগ করেন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এই প্রার্থীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছেন তারই দলের বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। 

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। বঞ্চিত হয়ে পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ায় সম্প্রতি তাকে দলের সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। 

বহিষ্কৃত হওয়ার পরও নির্বাচনী মাঠে দৃঢ়ভাবে আছেন গিয়াস উদ্দিন। নিয়মিত নিবাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়া সম্প্রতি আসনটিতে সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলটি যুক্ত করে সীমানা বৃদ্ধি করা হয়। আর সিদ্ধিরগঞ্জকে গিয়াস উদ্দিনের সবচেয়ে শক্তিশালী জোন বলা হয়ে থাকে। এ অঞ্চলে তার ব্যাপক কর্মী-সমর্থক রয়েছে। এছাড়া ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

বিএনপি ছাড়াও এ আসনে আলোচনায় রয়েছেন গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরা। 

গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। দীর্ঘদিন যাবত সোনারগাঁয়ের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। পেশায় ব্যবসায়ী ওয়াহিদুর রহমান প্রথম থেকেই নির্বাচনী মাঠে সরব ছিলেন। আসনটির তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। 

এ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী অঞ্জন দাস। সে দলটির জেলা নির্বাহী সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। 

সোনারগাঁকে অনেকেই হেফাজত অধ্যুষিত এলাকা বলে আখ্যায়িত করেন। ফলে এ আসনে ইসলামী দলগুলোর বড় একটি ভোটব্যাংক রয়েছে। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ইসলামী ও সমমনা ১১ দলীয় জোটের নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থী দেয়া না হলেও জোটের দলগুলো তাদের প্রার্থী দিয়েছেন। যাদের রয়েছে পৃথক দলীয় ভোটব্যাংক।

এই জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য ও শিক্ষাবিদ। 

ইকবাল হোসেন সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের শিরাব গ্রামের মো. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামি স্টাডিজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রী সম্পূর্ণ করেন। এছাড়া তিনি ঢাকা আলিয়া থেকে হাদীসে কামিল করেন। তিনি সোনারগাঁও আইডিয়াল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে বর্তমানে ও দায়িত্ব পালন করছেন।

সোনারগাঁয়ের সন্তান ও একটি কলেজের প্রধান শিক্ষক হিসেবে আসনটিতে তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তিনি ইসলামী জোটের প্রার্থী। অনেকের মতে ইকবাল হোসেন ইতোমধ্যেই ভোটের মাঠে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। 
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান একপ্রকার একঘরে হয়ে আছেন। কারন মনোনয়ন বঞ্চিত ৭ প্রার্থী একজোট হয়ে মান্নান ঠেকাও আন্দোলনে নেমেছে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম এই বিদ্রোহী গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। 
 মনোনয়ন বাতিল হলেও ফের নিবাচনী মাঠে ফিরতে পারেন এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম। প্রবীণ এ বিএনপি নেতা নির্বাচনী মাঠে ফিরলে বদলে যাবে আসনটির নির্বাচনী সমীকরণ। কেননা রেজাউল করিম বিএনপির একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। দীর্ঘজীবন আসনটিতে রাজনীতি করার এখানে রয়েছে তার বিপুল সংখ্যাক কর্মী সমর্থক। এছাড়া ইতোপূর্বে তিনি এ আসনের জনপ্রিতিনিধি ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় ভোটারদের মাঝেও রয়েছে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা। এছাড়া তার নেতৃত্বে মনোনয়ন বঞ্চিত ৭ জন প্রার্থী পৃথক মোর্চা গঠন করেছেন। পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছে তারা। 

মন্তব্য করুন